প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ AM

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ দলিল প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার তুরস্ক সরকার দেশটির সংসদে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ জমা দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে তা অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে সামরিক সক্ষমতাসহ পারস্পরিক সহায়তার মাধ্যমে সহযোগিতা করবে অন্য দেশগুলো। গত আগস্টে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের মতো বিধান রয়েছে। তবে এতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
১৬ অনুচ্ছেদের চুক্তিতে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিন দেশ যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ ও মহড়া আয়োজন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং নিরাপদ মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে। অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে সহায়তার ধরন নির্ধারণ করা হবে প্রয়োজনের মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার ভিত্তিতে। চুক্তিতে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তি বাস্তবায়নে সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে গঠিত ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ বছরে দুবার বৈঠক করবে। কমিটির সর্বসম্মতিতে ভবিষ্যতে অন্য দেশকেও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম নির্ধারণ করা যাবে। চুক্তিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে, তবে কার্যকর হওয়ার প্রথম ১০ বছর কোনো সদস্য দেশ এটি থেকে সরে যেতে পারবে না। এরপর প্রত্যাহার করতে চাইলে অন্তত তিন মাস আগে অন্য সদস্যদের লিখিতভাবে জানাতে হবে। তিন দেশের নিজ নিজ অনুমোদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি কার্যকর হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি