প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ AM

রাজধানীর আশপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ১৮৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। প্রকল্পটির আওতায় বিশেষভাবে তুরাগ নদীর দূষণ পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। এর মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের আওতায় ড্রোন দিয়ে নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলা পর্যবেক্ষণ, দূষণের উৎস ও হটস্পট শনাক্ত এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তুরাগের পাড়ে চিহ্নিত ১৭৩টি কারখানায় বর্জ্য শোধনাগারের (ইটিপি) কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পানির মান পর্যবেক্ষণে রিয়েল-টাইম অনলাইন ব্যবস্থা চালু, নৌযানে টহল দিয়ে নদীর তলদেশ পরিষ্কার এবং প্রকল্প চলাকালে অন্তত ৩৬ বার পানির নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হবে।
এ ছাড়া নিয়মিত অভিযান, নোটিশ জারি ও আইন লঙ্ঘনকারী কারখানাকে জরিমানা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ৩৩৩-৪ হেল্পলাইনকে সমন্বিত অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় উন্নীত করা হবে। পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘গ্রিন স্টার রেটিং’ দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ঢাকা মহানগর এলাকার নদী, খাল ও লেকের কঠিন বর্জ্য এবং গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্যজনিত দূষণ কমানো। দ্রুত নগরায়ণ ও অপরিকল্পিত শিল্পায়নে তুরাগের পানি দূষিত হওয়ায় জলজ প্রাণী ও পরিবেশের ওপর যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় নজরদারি ও আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ানোই প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি