প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ AM

দেশের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারদের কার্যালয়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। গত জুন পর্যন্ত এসব কার্যালয়ে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মোট সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা প্রায় ৫ দশমিক ০৭ মেগাওয়াট। এ কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। তবে নেট মিটারিং চালু না হওয়ায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে বিল সমন্বয়ের সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচির অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৪ হাজার ৬৬৩ কিলোওয়াট। পাঁচটি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সক্ষমতা ৪০৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট। নেট মিটারিং চালু হলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিল সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে। শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮০০ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে নেট মিটারিংয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকায় অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে বিল সমন্বয় শুরু হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি জেলায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যায়নি। কোথাও দরপত্রের প্রস্তাবিত মূল্য বরাদ্দের চেয়ে বেশি হওয়ায় কাজ এগোয়নি, আবার ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ভাড়া ভবনে হওয়ায় সেখানে ব্যবস্থা স্থাপন সম্ভব হয়নি। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, জাতীয় পর্যায়ে এ সক্ষমতার অবদান সীমিত হলেও সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট আসার কথা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি