প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ AM

দুই হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাজীপুর- বিমানবন্দর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প চালু না করে এর অবকাঠামো অপসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার। গত ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিআরটির স্টেশন ও লেন বিভাজকসহ অন্যান্য অবকাঠামো সরিয়ে সড়কটিকে উভয় দিকে তিন লেন করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে।
গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সাড়ে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্পটি ২০১২ সালে অনুমোদন করা হয়। চার বছরে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও ১৪ বছরেও প্রকল্পটি চালু হয়নি। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি টাকা, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস কেনা হয়নি। ওই সময় অবকাঠামোগত কাজের ৯৭ শতাংশ শেষ হলেও সার্বিক অগ্রগতি ছিল ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। প্রকল্পের জন্য নির্মিত ২৫টি স্টেশন ও সড়কের মাঝখানের বিশেষ লেন অপসারণের পরিকল্পনা থাকলেও চার কিলোমিটার ফ্লাইওভার এবং তুরাগ নদের ওপর নির্মিত ১০ লেনের সেতু বহাল রাখার কথা রয়েছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান এক বিবৃতিতে সিদ্ধান্তটিকে টেকসই ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রকল্প বাতিল করে অবকাঠামো অপসারণের সিদ্ধান্তে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে এবং এতে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, তুলনামূলক কম ব্যয়ের বিআরটির বদলে বেশি ব্যয়ের মেট্রোরেলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রকল্পের অবকাঠামো অপসারণে নতুন করে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি