প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৫ AM

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বাড়তি দায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। একই সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। অন্যদিকে, আগামী পাঁচ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ প্রায় ২৫ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের আসল হিসেবে ১৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন এবং সুদ হিসেবে প্রায় ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের প্রাক্কলন রয়েছে। ২০২৯-৩০ অর্থবছরে বার্ষিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল ও মেট্রোরেলসহ বড় প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় এ চাপ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান কিছুটা স্বস্তি দিলেও আমদানি ব্যয় ও ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার আয় ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
জ্বালানি, সার, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও ডলারের বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির গতি কমে গেলে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি আয়ের ওপর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে ঋণ পরিশোধের অঙ্ক একাই ঋণসংকট বা রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ার প্রমাণ নয়; প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ভর করবে বৈদেশিক মুদ্রার আয়-ব্যয়, ঋণের শর্ত ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি