প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৩ AM

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধের জাল বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। ফুটপাতের দোকান, পরিবহন, মাদকের স্পট, রিকশার গ্যারেজ, নার্সারি ও বিভিন্ন ব্যবসা থেকে চাঁদা আদায় করে এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের বরাতে জানিয়েছে কালবেলা। অভিযোগ রয়েছে, অপরাধের আয়ের অর্থে অস্ত্র কেনা হচ্ছে এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অনেকে আতঙ্কে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরের বছিলা সড়কের প্রায় ১৭০টি ফুটপাতের দোকান বিভিন্ন গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দোকানের অবস্থান অনুযায়ী প্রতিদিন চাঁদা আদায় করা হয়। এ ছাড়া আদাবর ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১০টি মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহনের স্ট্যান্ড, গ্যারেজ ও নার্সারি থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর বছিলা সড়কে দুই হকারের ওপর গুলি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনার পেছনেও ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কথা উঠে এসেছে। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় রায়েরবাজারের কিশোর গ্যাংয়ের এক নেতাকে হত্যার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর তৎপরতার ঘাটতি এসব অপরাধ বিস্তারের অন্যতম কারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মু. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, রাজনৈতিক নেতারা অনেক সময় ক্ষমতা প্রদর্শন ও অনৈতিক কাজে কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করেন। তাই অপরাধীদের পাশাপাশি আড়ালে থেকে মদদ দেওয়া ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করতে হবে। অন্যদিকে, পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, বছিলা সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ করে চলাচলের জন্য সড়ক উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরেজমিনে ওই এলাকায় সড়কের অনেকটা অংশজুড়েই দোকান দেখা গেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি