
বিচ্ছেদের পর প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগ ধরে রাখা বা সেই সম্পর্কের স্মৃতি থেকে বের হতে না পারা স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা। তবে এই আবেগ কাটিয়ে ওঠার সময় সবার ক্ষেত্রে এক নয়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগগত টান অর্ধেক কমিয়ে আনতেই একজন মানুষের গড়ে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিবেচনায় পুরোপুরি আবেগমুক্ত হতে প্রায় আট বছরও সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক জিয়া ওয়াই. চং ও আর. ক্রিস ফ্রেলি এ গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে ‘Social Psychological and Personality Science’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।
গবেষণায় অংশ নেন ৩২৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদের প্রত্যেকের অন্তত দুই বছর স্থায়ী একটি প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পরে ভেঙে যায়। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৩০-এর কোঠায় এবং ৫৭ শতাংশ ছিলেন নারী। তাঁদের প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের গড় স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৬ বছর। গবেষণার সময় পর্যন্ত বিচ্ছেদের পর গড়ে প্রায় পাঁচ বছর পার হয়েছিল।
গবেষকেরা বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগগত টান পরিমাপ করেন। প্রাক্তনের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা, তাঁর কাছ থেকে নিরাপত্তাবোধ পাওয়া এবং অন্যান্য আবেগ এখনো কতটা কাজ করে—এসব বিষয় জানতে চাওয়া হয়। একই ধরনের প্রশ্ন একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়েও করা হয়। এর মাধ্যমে প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগগত বন্ধন একজন অপরিচিত ব্যক্তির তুলনায় কতটা বেশি, তা নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয়।
গবেষণার পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে অধিকাংশ মানুষের প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগগত বন্ধন ধীরে ধীরে কমে আসে। গবেষকদের মডেল অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এই বন্ধন প্রায় শূন্যের দিকে চলে যায়। অর্থাৎ একপর্যায়ে অধিকাংশ মানুষ প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি এমন আবেগ অনুভব করা বন্ধ করেন, যা একজন অপরিচিত ব্যক্তির প্রতি অনুভূতির চেয়ে বেশি।
তবে এই প্রক্রিয়া বেশ ধীর। গবেষণা অনুযায়ী, প্রাক্তনের প্রতি আবেগগত বন্ধন অর্ধেক কমতে গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ১৮ বছর সময় লাগে। এই প্রবণতাকে সরলভাবে দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োগ করলে পুরোপুরি আবেগমুক্ত হতে প্রায় আট বছর সময় লাগতে পারে। অবশ্য ব্যক্তিভেদে এই সময়ের পার্থক্য অনেক বেশি হতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে আবেগগত বন্ধন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যাদের মধ্যে উদ্বেগপ্রবণতার মাত্রা বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রাক্তনের প্রতি আবেগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
অন্যদিকে, প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে সন্তান থাকলে বিচ্ছেদের শুরুতে আবেগগত বন্ধন তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধন সন্তানহীন সাবেক দম্পতিদের তুলনায় দ্রুত কমেছে।
আশ্চর্যজনকভাবে, নতুন সম্পর্কে জড়ানো কিংবা নারী-পুরুষের পার্থক্য—কোনোটিই প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগগত বন্ধন কত দ্রুত কমবে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেনি।
গবেষকেরা বলছেন, বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনকে পুরোপুরি ভুলে যাওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। কারও ক্ষেত্রে আবেগ দ্রুত কমে যেতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে বহু বছর পরও কিছুটা টান থেকে যেতে পারে। তাই গবেষণায় পাওয়া সময়কে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর কোনো নিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ