
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন মানেই স্ন্যাক্স খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে—এমন নয়। বরং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পরবর্তী খাবারে বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিমিত ও পুষ্টিকর স্ন্যাক্স বেছে নেওয়া যেতে পারে।
তবে স্ন্যাক্সের ক্ষেত্রে শুধু খাবারটি স্বাস্থ্যকর কি না, সেটিই বিবেচ্য নয়। কোন খাবার কতক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং একবারে কতটা খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কয়েকটি স্ন্যাক্সের কথা জানিয়েছেন। তার তালিকায় থাকা খাবারগুলোর মধ্যে কিছুতে ক্যালরি তুলনামূলক কম, আবার কিছু খাবার বেশি পরিমাণে খেলে ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।
মসলাযুক্ত ঘোল
তালিকার প্রথম দিকে রয়েছে মসলাযুক্ত ঘোল। এতে প্রোটিন থাকায় এটি কিছু সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ভাজা মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট তুলনামূলক দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। মিষ্টি ধরনের কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হলে ভাজা মিষ্টি আলু একটি বিকল্প হতে পারে।
মুড়ির চাট
তুলনামূলক কম ক্যালরিতে এক বাটি পরিমাণ খাওয়া যায় বলে মুড়ির চাটও স্ন্যাক্স হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে এতে কী কী উপকরণ এবং কতটা তেল ব্যবহার করা হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
ভাজা পনির
আরও কিছুটা পেট ভরা খাবার চাইলে ভাজা পনির খাওয়া যেতে পারে। পনিরে প্রোটিন ও ফ্যাট থাকায় এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে ক্যালরি বেশি হওয়ার কারণে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
তরমুজ ও প্রোটিন বার
তরমুজ শরীরকে সতেজ ও আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। তবে এতে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা নাও থাকতে পারে। অন্যদিকে বাইরে থাকলে বা কর্মস্থলে ব্যস্ততার মধ্যে প্রোটিন বার সুবিধাজনক স্ন্যাক্স হতে পারে। তবে কেনার আগে এতে অতিরিক্ত চিনি রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো।
চিনাবাদাম, পিনাট বাটার ও ডার্ক চকলেট
চিনাবাদাম ও পিনাট বাটার পুষ্টিকর হলেও এগুলোতে ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই পরিমাণের দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে অল্প পরিমাণ ডার্ক চকলেট খাওয়া যেতে পারে। পুষ্টিবিদ বাত্রার পরামর্শ অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে দুই টুকরোর বেশি না খাওয়াই ভালো।
স্ন্যাক্স হিসেবে বাদামও পুষ্টিকর খাবার। তবে একবার খাওয়া শুরু করলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে। তাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ স্ন্যাক্স পুরোপুরি বাদ না দিয়ে কখন, কী এবং কতটুকু খাওয়া হচ্ছে—এই তিনটি বিষয়েই নজর দেওয়া উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি