প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম

ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এআই চ্যাটবটের তথ্যের বৈচিত্র্য ও মানুষের জ্ঞান অর্জনের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকেরা ২৭টি ভিন্ন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এআই চ্যাটবটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন। ১৫৫টি পৃথক বিষয়বস্তুর ওপর ২০০টি নির্দিষ্ট প্রম্পট ব্যবহার করে এসব মডেল থেকে ৭ কোটিরও বেশি উত্তর সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করা এআই চ্যাটবটটির তথ্যের বৈচিত্র্য প্রচলিত গুগল সার্চ ইঞ্জিনের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম। অর্থাৎ এআই চ্যাটবট অনেক ক্ষেত্রে ঘুরেফিরে একই ধরনের উত্তর ও সীমিত দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা কোনো বিষয়ে তথ্য পেলেও বিভিন্ন উৎস ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম পেতে পারেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় তথ্য দেওয়া উন্নত এআই মডেল GPT-5-এর উত্তরেও গুগল সার্চের তুলনায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ কম বৈচিত্র্য ছিল।
গবেষকদের মতে, এআই চ্যাটবট শুধু মানুষের জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতিই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা তথ্যের পরিধিও সংকুচিত করতে পারে। মানুষ যখন নিয়মিত একই ধরনের তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন কোনো বিষয়কে বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ কমে যেতে পারে।
গবেষণার এসব ফলাফল থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের চিন্তাশক্তি ও জ্ঞান অর্জনের ধরনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাত্রা ও পদ্ধতি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে গবেষণার ফলাফলকে সরাসরি ‘এআই মানুষের বুদ্ধিমত্তা কমিয়ে দিচ্ছে’—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এআই ব্যবহারের ফলে তথ্যের বৈচিত্র্য, স্বাধীন চিন্তা ও জ্ঞান অর্জনের ওপর কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি