প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২০ পিএম

র্যাশ বা কোনো দৃশ্যমান দাগ ছাড়াই দীর্ঘদিন সারা শরীরে চুলকানি হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। চুলকানি ছয় সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে এটি কোনো জটিল রোগের লক্ষণও হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি।
অনেকের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক থাকে এবং মাঝেমধ্যে চুলকানিও হতে পারে। তবে ত্বক শুকিয়ে খসখসে হয়ে যাওয়া, কালচে দাগ বা ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ত্বকে লাল দাগ, ফুসকুড়ি বা শুষ্কতা থাকলে সাধারণত ত্বকের সমস্যাই চুলকানির কারণ হয়। কিন্তু ত্বক দেখতে স্বাভাবিক থাকার পরও দীর্ঘদিন চুলকানি হলে এর পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে।
লিভার বা কিডনির সমস্যার উপসর্গ হিসেবেও চুলকানি দেখা দিতে পারে। লিভারের সমস্যায় হাতের তালু ও পায়ের তলায় বেশি চুলকানি হতে পারে। কিডনির সমস্যায় অনেক সময় রাতে সারা শরীরে চুলকানি দেখা দেয়। আবার থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা বা শরীরে আয়রনের ঘাটতিতেও চুলকানি হতে পারে। ডায়াবেটিসের কারণে রক্তে শর্করা বেড়ে গেলে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়ে ত্বক শুষ্ক হতে পারে।
চুলকানি টানা ছয় সপ্তাহের বেশি থাকলে, এর সঙ্গে চোখ বা ত্বক হলদেটে হয়ে গেলে, কারণ ছাড়াই ওজন কমে গেলে, রাতে ঘাম বা জ্বর হলে কিংবা শরীরের কোথাও কোনো গ্রন্থি ফুলে উঠলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দীর্ঘদিনের চুলকানির কারণ অনুসন্ধানে লিভার ফাংশন টেস্ট, কিডনি ফাংশন টেস্ট, থাইরয়েড টেস্ট এবং কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা সিবিসি করা হতে পারে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে চুলকানির পেছনে লিভার, কিডনি, থাইরয়েড বা রক্তসংক্রান্ত কোনো সমস্যা আছে কি না, তা প্রাথমিকভাবে বোঝা যেতে পারে।
ত্বকে কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ না থাকলেও দীর্ঘদিন চুলকানি থাকলে শুধু ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কারণ নির্ণয় করা উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি