
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় শ্বশুরকূলের সঙ্গে আপস করেও জামিন পেলেন না সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা জি এম নজরুল ইসলাম।
বুধবার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম তা নাকচ করেন।
জামিন নামঞ্জুরের কারণ ব্যাখ্যা করে বিচারক বলেন, আসামি শুধু বয়স্ক হওয়ায় কিংবা আপসঅযোগ্য ধারার মামলায় আপসনামা দেওয়ায় জামিন পাওয়ার অধিকারী নন। ভিকটিম অতি অল্পবয়স্ক ছিলেন এবং বিভিন্ন নোট লিখে গেছেন। আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা অবস্থায় ভিকটিমের মৃত্যু হওয়ায় আসামি জামিনে গেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং ন্যায়বিচার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া আসামির হাজতবাসের সময়ও বেশি নয়। এসব বিবেচনায় এ পর্যায়ে তাঁর জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এর পরদিন নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই দফা রিমান্ড শেষে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এ মামলায় নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিন পান। মামলার আরেক আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানও কারাগারে রয়েছেন।
গত জুলাইয়ে নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে মরিয়মকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন নজরুল।
ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে কয়েকটি চিরকুটও পাওয়া যায়, যেখানে নজরুলকে দায়ী করে বিভিন্ন কথা লেখা ছিল। পুলিশের ধারণা, লেখাগুলো মরিয়মের।
মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে ওই দিনই শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর শ্যালক ওবায়দুরের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন নজরুলের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। তিনি জানিয়েছিলেন, নজরুল জামিনে মুক্তি পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না।
তবে আপসের ভিত্তিতে করা জামিন আবেদন আদালত গ্রহণ করেননি। ওই সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেছিলেন, মামলাটি আপসযোগ্য নয়।
মামলার বাদী মাসুম বিল্লাহ আসামি নজরুলের ভাগ্নে। সেই সূত্রে মরিয়ম ছিলেন নজরুলের নাতনি। মরিয়মের মামা ওবায়দুর একসময় নজরুলের গাড়িচালক ছিলেন।
জুলাইয়ে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ওবায়দুর নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন। তাঁর দাবি, মরিয়মের বাবা-মা মেয়েকে সংসদ সদস্য নজরুলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি তখন এ বিয়েতে বাধা দিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর বিতর্কের মধ্যে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুলকে জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করে। তবে তাঁর সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ