
গ্যাস-অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া, বমি বমি ভাব, পেট খারাপ, ডায়রিয়া কিংবা বদহজম—মাঝেমধ্যেই এসব সমস্যায় ভোগেন অনেকে। সাধারণ মনে হলেও এ ধরনের সমস্যা বারবার হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
স্বাস্থ্যবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম হেলথলাইনের প্রতিবেদনে হজমশক্তি ভালো রাখতে কয়েকটি অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে।
সম্পূর্ণ খাবার খাওয়া
প্রাকৃতিক বা কম প্রক্রিয়াজাত খাবার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এসব খাবারে ফাইবার, প্রিবায়োটিক, ভিটামিন ও খনিজ থাকে। বিপরীতে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা বাড়তি চিনি ও কৃত্রিম উপাদান কমিয়ে আনা হজমের জন্য উপকারী হতে পারে।
পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ
নিয়মিত আঁশযুক্ত খাবার খেলে মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। শস্য ও সবজিতে থাকা অদ্রবণীয় ফাইবার মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং খাবার পাচনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে চলাচলে সহায়তা করে। অন্যদিকে ফলমূল ও বীজজাতীয় খাবারে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রে পুষ্টি শোষণ ও উপকারী অণুজীবের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখা
অ্যাভোকাডো, বাদাম ও স্যামনের মতো খাবারে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি হজমের জন্য উপকারী হতে পারে। এগুলো পিত্ত নিঃসরণে সহায়তা করে এবং ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে-এর মতো চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন শোষণে ভূমিকা রাখে।
পর্যাপ্ত পানি পান করা
শরীরের স্বাভাবিক অন্ত্রের কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত তরল প্রয়োজন। পানি খাবার হজমে, হজমকারী এনজাইমের কার্যক্রমে এবং শরীরে পুষ্টি পরিবহনে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও পেট ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা
মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে ‘গাট-ব্রেইন অ্যাক্সিস’ নামে দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে মানসিক চাপ হজমের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী চাপের কারণে পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। তাই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও হজমের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া
খাবার চিবানো হজম প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। ভালোভাবে চিবালে খাবার ছোট অংশে ভেঙে যায় এবং হজমকারী এনজাইমের জন্য তা সহজে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয়। ধীরে ও সচেতনভাবে খাবার খাওয়ার অভ্যাস পেট ফাঁপা ও অস্বস্তির সম্ভাবনাও কমাতে সহায়তা করতে পারে।
শরীরের সংকেত বুঝে চলা
হজমের সমস্যা হলে শরীরের পরিবর্তনগুলো খেয়াল করা জরুরি। কোন খাবার বা অভ্যাসে সমস্যা বাড়ছে, তা বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে সব ধরনের হজমের সমস্যা খাবার বা জীবনযাপনের কারণে হয় না। সমস্যা বারবার হলে, তীব্র হলে বা নতুন কোনো জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি