বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● এআই আর্থিক সিদ্ধান্তকে শাণিত করবে, প্রতিস্থাপন নয়      ● অনুমোদনহীন চক্ষু কেন্দ্র, চিকিৎসকের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন      ● মহাকাশ গবেষণায় বড় পরিকল্পনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের      ● নলছিটিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার      ● সুস্থ প্রতিযোগিতা ভালো, মাত্রা ছাড়ানো নয়: সৃজিত      ● সিরাজগঞ্জে ৯০০ গ্রাম হেরোইন রাখার মামলায় যাবজ্জীবন      ● কাজের ভিসা প্রক্রিয়া চলাকালেই পরিবার নিতে পারবেন সৌদিতে      ● ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: ডিবিপ্রধান      ● ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে বেছে নিন স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স      ● আতঙ্ক-উচ্ছ্বাস দুই নিয়েই রূপপুরের অপেক্ষায় বাংলাদেশ      ● ৪৩ ম্যাচ ধরে অপ্রতিরোধ্য স্পেন      ● কিউ-ক্যাশের সেবা বন্ধের অবসান, স্বাভাবিক লেনদেন      
এআই আর্থিক সিদ্ধান্তকে শাণিত করবে, প্রতিস্থাপন নয়
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১০ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আধুনিক অর্থ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে। তবে এআই যতই উন্নত হোক, আর্থিক সিদ্ধান্তে মানুষের বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার বিকল্প হতে পারে না।

সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬৪ শতাংশ প্রধান নির্বাহী এখন এআই-নির্ভর তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। আইবিএম ইনস্টিটিউট ফর বিজনেস ভ্যালু ও অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের যৌথ পরিচালনায় ৩৩টি দেশের দুই হাজার প্রধান নির্বাহীকে নিয়ে করা ২০২৬ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এখন একজন ডেডিকেটেড ‘চিফ এআই অফিসার’ রয়েছেন। এক বছর আগে এ হার ছিল ২৬ শতাংশ।

অর্থাৎ করপোরেট সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই এখন আর শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বিষয় নয়; বরং তা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ হয়ে উঠছে।

অর্থ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কেপিএমজির ‘গ্লোবাল এআই ইন ফাইন্যান্স ২০২৬’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন-চতুর্থাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান আর্থিক পরিকল্পনা, প্রতিবেদন তৈরি ও বাণিজ্যিক বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করছে। ৭১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এআই থেকে প্রত্যাশিত বিনিয়োগের রিটার্ন (আরওআই) তারা পাচ্ছে বা তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

তবে এআই ব্যবহারের বিস্তার এবং এর প্রকৃত কার্যকারিতার মধ্যে এখনও কিছুটা ব্যবধান রয়েছে। সিদ্ধান্তের মান, পূর্বাভাসের নির্ভুলতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে এর সবচেয়ে বড় সুফল দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের চিত্র অবশ্য কিছুটা ভিন্ন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৬৮ শতাংশ ব্যাংকের এখনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিমালা বা নির্দেশিকা নেই। মাত্র ৩২ শতাংশ ব্যাংকের এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতি রয়েছে।

বিশ্ব যখন দ্রুত এআইনির্ভর হয়ে উঠছে, তখন বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নীতিগত প্রস্তুতির এই ঘাটতি আর্থিক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এ পরিস্থিতিতে অর্থ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, অনুমান বা আবেগনির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের অতীত ব্যয়ের ধরন বিশ্লেষণ করে এআই সম্ভাব্য ঝুঁকি ও লুকানো প্রবণতা চিহ্নিত করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে এআইকে ‘দ্বিতীয় মতামত’ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বৈঠকের আগেই প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যান ও পূর্বাভাস বিশ্লেষণ হাতে থাকলে নেতৃত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে।

তৃতীয়ত, সাময়িক লাভের বদলে টেকসই প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাজারে সম্ভাব্য মন্দা বা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

চতুর্থত, বাজারের সাময়িক হুজুগ বা আবেগের বদলে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রযুক্তিতে ব্যয়কে কেবল খরচ হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

এই নীতিগুলো শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মানুষের আর্থিক জীবনকে বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করে আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বহুল ব্যবহৃত ‘৫০-৩০-২০’ সূত্র অনুসরণ করে আয়ের ৫০ শতাংশ মৌলিক চাহিদা, ৩০ শতাংশ জীবনযাত্রা এবং ২০ শতাংশ ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনাও করা যায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয়ের হার জাতীয় আয়ের ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তবে এই সঞ্চয় কতটা সমানভাবে বণ্টিত হচ্ছে এবং কতটা প্রকৃত সম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বড় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিকল্পনা—সব ক্ষেত্রেই এআই ব্যয়ের ধরন বিশ্লেষণ, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং সম্ভাব্য ফলাফল অনুমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নীতিটি হওয়া উচিত স্পষ্ট—অনুমান নয়, তথ্য; আবেগ নয়, প্রমাণ।

এআইয়ের সক্ষমতার পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতাও মনে রাখা জরুরি। প্রযুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে তথ্যের মান এবং যথাযথ নীতিগত কাঠামোর ওপর। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে এআই ব্যবহারে নীতিমালার ঘাটতি সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তাই বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআইবিএম ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে সমন্বিতভাবে একটি স্পষ্ট ও কার্যকর এআই ব্যবহার নির্দেশিকা প্রণয়ন করা জরুরি।

প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও বিস্তৃত করা যেতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব দিতে হবে মানুষের মানবিক প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও বিচক্ষণতা দিয়েই।




স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close