প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান। তেহরানের শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের শেষে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা পুনরায় শুরুর কথাও বলা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
আরাগচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটন শর্তগুলো মেনে নিলে পরদিন থেকেই সাত দিনের সময়সীমা শুরু হবে এবং সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এরপর দুই দেশ চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন পরিকল্পনাটি জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে তৈরি। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবে নতুন কোনো শর্তের বদলে আগের সমঝোতায় থাকা বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, বিভিন্ন ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়ের মতো পদক্ষেপ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনার অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বরও এক ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে প্রস্তুত তেহরান।
এদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইতিবাচক ও গঠনমূলক হিসেবে বর্ণনা করলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় তাড়াহুড়া না করার অবস্থানও জানানো হয়েছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নিউইয়র্কে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে এই নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক করা গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সম্মতির ঘোষণা আসেনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি