
ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম স্থান মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের একাধিক অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এ সতর্কতা জারি করে। সাধারণত সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ‘ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে মক্কা নগরীতে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ইয়ানবু গভর্নরেট এবং তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চলেও আলাদা সতর্কতা জারি করা হয়। তবে কয়েক মিনিট পর এসব সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
মক্কাকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে মক্কাকে ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কার দিকে অগ্রসর হওয়া একটি হুথি ড্রোনকে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়।
তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে এ ঘটনার দায় ও উদ্দেশ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
রিয়াদেও হামলার ঘটনা
এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। হুথিরা হামলার দায় স্বীকার করলেও হামলায় লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তাদের কিছু দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে হুথিদের হামলা ও হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়েও।
ইয়েমেন সংঘাতের প্রেক্ষাপট
২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে এবং এর প্রভাব সৌদি ভূখণ্ড ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পড়ছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের মক্কা, জেদ্দা, তায়েফ, ইয়ানবু ও তাবুকসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের সতর্কবার্তাগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানানো হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ