প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩২ পিএম

রাইড-শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান Uber নাইজেরিয়া ও উগান্ডা থেকে নিজেদের কার্যক্রম পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ২০২০ সালের করোনা মহামারির পর এটিই উবারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কর্মীদের কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারা খোসরোশাহি জানান, ব্যবস্থাপনার স্তর কমানো, দলগুলোর কাঠামো সহজ করা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করতেই এই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। কোম্পানিটি একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম আরও বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
উবার জানিয়েছে, নাইজেরিয়া ও উগান্ডা থেকে তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কেবল ওই দুই দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আফ্রিকার অন্যান্য দেশে উবারের কার্যক্রমে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।
পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কর্মীদের অফিসে ফিরে কাজ করার ওপরও জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন নীতি অনুযায়ী মাত্র ১ শতাংশ কর্মী দূর থেকে কাজ করার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ অধিকাংশ কর্মীকেই অফিসে থেকে কাজ করতে হবে।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোও উবারের নতুন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর আগে গত মাসে গ্রাহকসেবা বিভাগের প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছিল কোম্পানিটি। মে মাসে নিয়োগের গতিও কমিয়ে দেওয়া হয়। এবার আরও বড় আকারে কর্মী কমানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করছে।
রোবোট্যাক্সি খাতেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে উবারের। টেসলা ও ওয়েমোর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কোম্পানিটি এই খাতে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে কর্মী ছাঁটাই ও আফ্রিকার দুটি দেশ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় পরিবহনকেন্দ্রিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আরএম