প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম

ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার কারণে নেপালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিতে। ভারতের বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বাংলাদেশে যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো, তা বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে। তবে বর্তমানে দেশটির রপ্তানি কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমেছে। এর মধ্যে চিলিমে ও ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ ভারতের গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হতো। বন্যার পর এই দুটি প্রকল্পের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহও শূন্যে নেমে এসেছে।
চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হতো। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দির্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিমাণ শূন্য। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প একটি প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বন্যার প্রভাব নেপালের বিদ্যুৎ খাতেও বড় আকারে পড়েছে। বন্যার পর দেশটির ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পকে ‘আইসোলেটেড মোডে’ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এসব প্রকল্প জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত না থেকে কেবল আশপাশের এলাকার বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সীমিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
এর পাশাপাশি ভারতে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানির ক্ষেত্রে অনুমোদন নবায়ন না হওয়ার বিষয়টিও নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। আপার চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ জুন শেষ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে রিভার ও আপার তাদি খোলা প্রকল্পের অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ জুলাই শেষ হয়েছে। এসব অনুমোদন নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো থেকে ভারতে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারবে না।
বাংলাদেশের জন্য নেপালের জলবিদ্যুৎ আমদানি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে উৎপাদন বন্ধ এবং রপ্তানি অবকাঠামোর ওপর প্রভাবের কারণে সেই সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলো আবার উৎপাদনে ফিরলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।