প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০৮ AM

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৭ নভেম্বর। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁকে দাফন করা হয় টাঙ্গাইলের সন্তোষে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সন্তোষে তাঁর মাজার প্রাঙ্গণে পরিবার, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ভক্ত, রাজনীতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করবে। একই সঙ্গে মাজার প্রাঙ্গণে সাত দিনব্যাপী ‘ভাসানী মেলা’ চলছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বাণীতে বলেছেন, “ভাসানী সব সময় আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মওলানা ভাসানী আমাদেরকে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রাণিত করবেন।
মওলানা ভাসানী অধিকারবঞ্চিত ও মেহনতি মানুষের স্বার্থ রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থেকে তিনি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে ক্ষমতার মোহ তাঁকে কখনও আকৃষ্ট করতে পারেনি।
ভাসানীর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো: তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন, লাইন প্রথা উচ্ছেদ ও জমিদারদের নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করেন। স্বাধীনতার সময় সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিলের উপদেষ্টা ছিলেন এবং স্বাধীনতার পর ফারাক্কা লং মার্চের উদ্যোগ নেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও মওলানা ভাসানীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, “ভাসানী ছিলেন নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর। যুগে যুগে তিনি শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।”
আজ সকাল থেকে তাঁর মাজারে রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ভক্ত ও অনুসারীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে