বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
সব কিছুই ‘উপর দিয়ে ফিটফাট, ভেতর দিয়ে সদর ঘাট!’
আমিনুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০৯ পিএম

আমরা যখন পড়াশুনা করতাম, মানে গত শতাব্দীর কথা বলছি। তখন আমরা নারী শিক্ষকদের ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতাম। এখন দেশে গেলে দেখি গ্রাম-শহর সকল জায়গায় নারী শিক্ষকদের “ম্যাম” বলে সম্বোধন করা হচ্ছে। 

বিশ্বাস করেন, আমি ছাত্র থাকা অবস্থায় জীবনে কোন দিন কোন নারী শিক্ষককে “ম্যাম” বলে সম্বোধন করিনি। আমার কোন ক্লাসমেটকেও বলতে শুনি নাই। তাহলে আমরা “মাডাম” থেকে “ম্যামে” ট্রান্সফার হলাম কেন? 

ধারণা করি- “ম্যাম” শুনতে একটু বেশি স্টাইলিশ কিংবা ইংরেজদের মত লাগে। আমি ভুলও হতে পারি। যা হোক, গতকাল মামদানির সাথে খালেদ ভাইর আলোচনা অনুষ্ঠানটা দেখছিলাম। এখন দেখছি অনেকেই খালেদ ভাইর ইংরেজি বলা নিয়ে সমালোচনা করছে। আমি নিজেও দেখেছি। আসলেই তিনি ভালো ইংরেজি বলেন না। একটা পুরো বাক্য বলতেই মনে হচ্ছে দাঁত ভেঙে যাচ্ছে। প্রশ্নটা আসলে অন্য জায়গায়। 

এখানে একজন ব্যক্তিকে সমালোচনা করতে হচ্ছে কেন? তাছাড়া ইংরেজদের মত করেই বা কথা বলতে হবে কেন? কথাটা ঠিক মত বলতে পারলেই তো চলছে। হ্যাঁ, খালেদ ভাইর সেখানেও সমস্যা হয়েছে। কারন উনার তো দাঁতই ভেঙে যাচ্ছিলো কথা বলতে! সে ক্ষেত্রে সিস্টেম নিয়ে সমালোচনা করুন। 

আপনি চিন্তা করে দেখেন, খালেদ ভাই বাংলাদেশে “সেরা” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করেছেন। এরপর “মেধাবী” বিসিএস ক্যাডারও হয়েছেন। এরপর সাংবাদিকতা করেছেন। এরপর অনেক দিন ধরে বিদেশে থাকছেন। এখন থাকেন অ্যামেরিকায়। 

এরপরও উনার দুই লাইন ইংরেজি বলতে দাঁত ভেঙে যাচ্ছে কেন? আমরা তো ক্লাস ওয়ান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ইংরেজি পড়ি। এরপর অনার্সেও ইংরেজি পড়তে হয়। এরপর উনি যে বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন, সেখানেও ইংরেজি পরীক্ষা দিতে হয়। এরপরও এই হাল কেন? 

কারন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটাই এমন। আপনি ভালো করে কিছু না জেনেই পাশ করে যাবেন। শুধু পাশ না, ভালো নাম্বার পেয়ে পাশ করবেন। যেমন ধরুন ফিনল্যান্ডে কিংবা আমাদের এস্তনিয়ায় যারা স্কুল পাশ করেছে। তাঁদের শত ভাগ মানুষ চমৎকার ইংরেজি বলে। আমি যে ছোট বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়াই; শিক্ষার্থীরা চমৎকার ইংরেজি বলে। কেউ ইংরেজদের মত করে বলে না। কিন্তু ঠিকঠাক মত ইংরেজি বলতে পারে। জীবনে দেখি নাই এরা নিজেরা নিজেরা শো-অফ করার জন্য ইংরেজি বলেছে। অথচ আমাদের সাথে কি চমৎকার করেই না ইংরেজি বলে।  

পাশের দেশ নেপালে যান। সেখানেও যারা স্কুল পাশ করেছে, অনর্গল ইংরেজি বলতে পারে। কারন এইগুলো ছোট দেশ। ইংরেজি শেখানো হয় স্কুল পর্যায় থেকে। ওরাও ঠিক মতই শেখে। আমাদের দেশেও তো শেখানো হয়। এরপরও অবস্থা এমন কেন? 

কারন আমাদের সব কিছু লোক দেখানো। আমরা নিজেরা নিজেরা বাংলার মাঝে ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলি- ভাব দেখানোর জন্য; আলাদা মূল্য পাবার জন্য! সত্যিকারের শিক্ষাটা আমাদের নাই। আমরা “ম্যাডাম” থেকে “ম্যামে” ট্রান্সফার হয়ে ভাবছি- উন্নত হয়ে গেছি! মানে সব কিছুই “উপর দিয়ে ফিটফাট, ভেতর দিয়ে সদর ঘাট!”



লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত


স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে




আরও সংবাদ   বিষয়:  ফিটফাট   সদর   ঘাট  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close