শুক্রবার ● ৩০ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● সিরাজগঞ্জে ২৫৫ গ্রাম হেরোইনসহ যুবক গ্রেপ্তার      ● বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা: মান, গবেষণা ও উৎপাদনশীলতা      ● জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া ৫ কিমি ম্যারাথন রান’ অনুষ্ঠিত      ● আজ থেকে ৫ মাসের জন্য শুরু হচ্ছে শুটকি মৌসুম      ● দীপের দুই বক্তব্যে অসংগতি, তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে রহস্য      ● দুবলার চরে যাওয়ার পথে নদীতে পড়ে জেলে নিখোঁজ      ● ২৩ দিনে ১১ হাজার ৫৬৬ যাত্রী, তবুও সি-ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ      ● রিয়াদের কারখানায় আগুনে নিহতদের আরও পাঁচ মরদেহ দেশে আসছে      ● হরমুজ প্রণালিতে মাইন নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি দাবি      ● অন্য বিমানে ফেরার সুযোগ থাকলেও সঙ্গীদের ছাড়েননি প্রধানমন্ত্রী      ● মক্কার আকাশে ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংসের দাবি      ● হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের বাজারে অস্থিরতা      
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা: মান, গবেষণা ও উৎপাদনশীলতা
ড. মোহাম্মদ ফেরদাউস খান, শিক্ষক এবং গণমাধ্যম কর্মী
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ পিএম আপডেট: ৩০.১০.২০২৬ ৩:১১ PM

বিশ্বজুড়ে চলমান দুটি যুদ্ধ বর্তমান অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। ইউরেশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে। উচ্চ বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি দেশে দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শিক্ষা সংস্কারসহ নানা দাবিতে আন্দোলন চলছে।

এই বাস্তবতায় শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীলতার কার্যকর সমন্বয়। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গবেষণা একটি জাতির উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শুধু কলকারখানা, রাস্তাঘাট, সেতু কিংবা বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলেই একটি দেশ প্রকৃত অর্থে উন্নত হয়ে ওঠে না। দৃশ্যমান উন্নয়নের পাশাপাশি এমন কিছু মৌলিক বিষয় রয়েছে, যেগুলো সরাসরি চোখে পড়ে না, অথচ একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানসম্মত শিক্ষা, উদ্ভাবনী গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি তেমনই কয়েকটি বিষয়।

বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে উচ্চশিক্ষার মান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নতুন জ্ঞান উৎপাদন, সামাজিক সমস্যা সমাধান এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

শিক্ষাব্যবস্থা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া

একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হলে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি তৈরি হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ে সেই ঘাটতি দূর করা না গেলে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষায় এর প্রভাব পড়ে। শেষ পর্যন্ত এসব দুর্বলতা উচ্চশিক্ষায়ও প্রতিফলিত হয়।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান, ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, বিশ্লেষণক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে হয়। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উন্নত জ্ঞান অর্জন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাওয়ার কথা।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ শিক্ষক প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জ্ঞান, মূল্যবোধ ও সৃজনশীল চিন্তার পথে পরিচালিত করতে পারেন। বিপরীতে, একজন অদক্ষ বা দায়িত্বহীন শিক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের শেখার মান ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। সেই শিক্ষার্থীদের কেউ ভবিষ্যতে শিক্ষক হলে একই দুর্বলতা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা

একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সুন্দর ক্যাম্পাস, বহুতল ভবন কিংবা আধুনিক স্থাপত্য যথেষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত মান নির্ভর করে শিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের সমন্বিত উৎকর্ষের ওপর।

বাংলাদেশে বর্তমানে পাবলিক, বেসরকারি, আন্তর্জাতিক এবং ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন বা সিবিএইচই—এই চার ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় যে ধরনেরই হোক না কেন, প্রতিটির জন্য নির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি।

প্রথমত, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও মেধাভিত্তিক। প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, পাঠদানের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার পরিকল্পনা মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। নিয়োগের পরও শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, যুগোপযোগী পাঠক্রম প্রণয়ন করতে হবে। প্রযুক্তি, শিল্প, ব্যবসা, যোগাযোগ, সৃজনশীল শিল্প এবং শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যসূচি হালনাগাদ করা জরুরি। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তা, যোগাযোগক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।

তৃতীয়ত, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। এ দুই পক্ষের কার্যকর সহযোগিতা থাকলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাবে। ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের বক্তৃতা এবং বাস্তব সমস্যাভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষাকে কর্মজগতের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।

চতুর্থত, মাস্টার্স পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে থিসিসের গুরুত্ব নিশ্চিত করা উচিত। তবে সব পেশাভিত্তিক বা প্রয়োগমুখী প্রোগ্রামে একই কাঠামো চাপিয়ে না দিয়ে বিষয় ও প্রোগ্রামের লক্ষ্য অনুযায়ী গবেষণা, প্রকল্প বা সমমানের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

পঞ্চমত, এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামকে শক্তিশালী করতে হবে। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দক্ষ তত্ত্বাবধায়ক, আধুনিক গবেষণাগার, তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার এবং গবেষকদের জন্য বৃত্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গবেষণার সুযোগ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মান

আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে গবেষণার বিকল্প নেই। শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহিত করা, মানসম্পন্ন সাময়িকীতে প্রবন্ধ প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং গবেষণার ফলাফল সমাজ ও অর্থনীতিতে প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

Scopus ও Web of Science-এর মতো স্বীকৃত গবেষণা-সূচিতে অন্তর্ভুক্ত সাময়িকীতে প্রকাশনা আন্তর্জাতিক গবেষণার পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমানতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু প্রকাশনার সংখ্যা দিয়ে গবেষণার মান বিচার করা ঠিক নয়। গবেষণার মৌলিকত্ব, পদ্ধতিগত দৃঢ়তা, নৈতিকতা, প্রভাব এবং অন্যান্য গবেষণায় এর ব্যবহারও বিবেচনায় নিতে হবে। উদ্ধৃতির সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও বিষয়ভেদে উদ্ধৃতির প্রবণতা ভিন্ন হয়। তাই একাধিক মানদণ্ডের সমন্বয়ে গবেষণার মূল্যায়ন করা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটও প্রাতিষ্ঠানিক মানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে শিক্ষক পরিচিতি, গবেষণা, পাঠক্রম, ভর্তি, বৃত্তি, প্রশাসনিক কাঠামো, প্রকাশনা ও যোগাযোগের তথ্য সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। হালনাগাদ ও তথ্যসমৃদ্ধ ওয়েবসাইট দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।

পাশাপাশি আধুনিক গ্রন্থাগার, উন্নত গবেষণাগার, নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চশিক্ষার মান কেবল গবেষণাপত্রের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না; শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ ও কল্যাণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিকতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। যোগ্য বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্যও পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ব্যক্তিগতভাবে কয়েকটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের সুযোগ পেয়ে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সেখানে গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান, উচ্চতর ডিগ্রি, প্রকাশনা ও পেশাগত দক্ষতার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। তবে সব দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই যোগ্যতার শিক্ষক নিয়োগ করা হয়, এমন ধারণা সঠিক নয়। বাংলাদেশেরও উচিত নিজস্ব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান ও নতুন ধারণা তৈরির দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই, তথ্যসূত্র উল্লেখ, মেধাস্বত্ব রক্ষা এবং একাডেমিক সততা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষকদেরও এআই-সহায়ক শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

ডিগ্রির সঙ্গে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার সম্পর্ক

শিক্ষা নিয়ে আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—শিক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীলতার সম্পর্ক কতটা কার্যকর? কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন পড়াশোনা করে ডিগ্রি অর্জন করলেন, কিন্তু সেই জ্ঞান ব্যবহার করে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, গবেষণা কিংবা সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারলেন না। তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

তবে কর্মসংস্থান না পাওয়ার সব দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানোও যুক্তিসংগত নয়। শ্রমবাজারের সীমাবদ্ধতা, অর্থনৈতিক মন্দা, নিয়োগে বৈষম্য, অভিজ্ঞতার অভাব এবং শিক্ষার সঙ্গে চাকরির চাহিদার অসামঞ্জস্যও বেকারত্বের কারণ হতে পারে।

তাই অপরিকল্পিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভাগ ও আসনসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে কোন খাতে কত দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন, তা বিশ্লেষণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, দক্ষতা মূল্যায়ন, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সহায়তা চালু করা প্রয়োজন।

যেসব স্নাতক পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি পাচ্ছেন না কিংবা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে পারছেন না, তাঁদের জন্য পুনঃদক্ষতা অর্জন ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘স্কিলস সেন্টার’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেখানে ডিজিটাল দক্ষতা, ভাষা, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাভিত্তিক কাজ শেখানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত কাউকে অবজ্ঞা করা নয়, বরং তাঁকে কর্মক্ষম করে তোলা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। আগামী পাঁচ বছরে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যকর নীতি, গবেষণা ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক উন্নয়ন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা অর্থায়ন এবং শিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক থেকেও শিক্ষা নেওয়া সম্ভব। তবে কোনো দেশের মডেল হুবহু অনুসরণ না করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

একই সঙ্গে সাক্ষরতার সংজ্ঞা ও শিক্ষার মানের পার্থক্য বুঝতে হবে। নিজের নাম লিখতে পারা সাক্ষরতার একটি প্রাথমিক দিক। তবে আধুনিক সমাজে কার্যকর সাক্ষরতার জন্য পড়া বুঝতে পারা, লিখে নিজের ভাব প্রকাশ করা, সংখ্যাগত দক্ষতা এবং তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ব্যবসায়িক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা, গবেষণা ও উৎপাদনশীলতাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে পারলেই উচ্চশিক্ষা দেশের উন্নয়নের প্রকৃত চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু কতজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি পেলেন, তা দিয়ে বিচার করা যায় না। বরং শিক্ষার্থীরা কতটা জ্ঞান অর্জন করলেন, কতটা দক্ষ হলেন, নতুন কী জ্ঞান সৃষ্টি করলেন এবং ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কতটা অবদান রাখলেন—সেটিই হওয়া উচিত উচ্চশিক্ষার সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড।







স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি


আরও সংবাদ   বিষয়:  বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা   উচ্চশিক্ষার মান   বিশ্ববিদ্যালয়   গবেষণা   শিক্ষা সংস্কার   উৎপাদনশীলতা   দক্ষ মানবসম্পদ   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা   কর্মসংস্থান   গবেষণা উন্নয়ন  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : ড. এম এ কাইয়ুম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close