
ভাত, রুটি, ফলমূল বা শাকসবজি এগুলোকে খাবার বলেই মনে করেন না তিনি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শুধুই চা আর ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল! শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ভারতের কর্ণাটকের শিমোগা জেলার এক ব্যক্তি ৩৩ বছর ধরে এমন জীবনযাপন করে আসছেন বলে দাবি করেছেন। তার নাম জানা না গেলেও স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত ‘তেল কুমার’ বা ‘অয়েল কুমার’ নামে।
সম্প্রতি তার অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাসের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, লোকজন যখন তাকে স্বাভাবিক খাবার দিচ্ছেন, তিনি সেগুলো এড়িয়ে গিয়ে সরাসরি একটি বোতল থেকে কালো মোটর অয়েল পান করছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বছর ধরে এমন অস্বাভাবিক রুটিন মেনে চলার পরও তিনি কোনো গুরুতর শারীরিক জটিলতায় পড়েননি বলে দাবি করছেন।
তার ভাষ্য, “ভগবান আয়্যাপ্পার আশীর্বাদেই আমি সুস্থ আছি।”
তেল কুমারের এই অদ্ভুত অভ্যাস দেখে শঙ্কিত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা একে ‘চরম বিপজ্জনক’ বলে সতর্ক করেছেন। চিকিৎসকদের মতে, ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েলে থাকে পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনস (PAHs), যা ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া এতে থাকে লোহা, তামা, সিসা, অ্যালুমিনিয়ামের মতো ভারী ধাতু, যা দেহে জমে লিভার, কিডনি, স্নায়ুতন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করে।
তেলের মধ্যে থাকা অ্যাডিটিভস যেমন জিঙ্ক ডায়ালকাইলডাইথিওফসফেট, ক্যালসিয়াম অ্যালকাইল ফেনেটস এবং ম্যাগনেসিয়াম সালফোনেটস দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও স্নায়ুতন্ত্র ধ্বংস করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ইঞ্জিন অয়েল গলাধঃকরণে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো এটি ফুসফুসে ঢুকে পড়তে পারে, যা তাৎক্ষণিক শ্বাসকষ্ট ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে। সামান্য পরিমাণ গেলেও ডায়রিয়া, বমি ও পাকস্থলির প্রদাহ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন সেসব পদার্থ শরীরে গেলে প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর ন্যাশনাল পয়জন ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিষাক্ত পদার্থ গ্রহণ বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। হঠাৎ বিষক্রিয়া এখন বিশ্বজুড়ে অন্যতম সাধারণ জরুরি চিকিৎসা সমস্যা।
তেল কুমারের এই ঘটনা তাই শুধু কৌতূহল নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের জন্যও এক বড় প্রশ্ন এত দিন ধরে কীভাবে এমন বিপজ্জনক অভ্যাসে বেঁচে আছেন তিনি?
তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেও এমন রীতিকে আদর্শ হিসেবে নেওয়া একেবারেই অনুচিত এবং বিপজ্জনক। এটি কোনো অলৌকিকতা নয় বরং সময়ের সঙ্গে ভয়াবহ পরিণতির কারণ হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে