প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৫ পিএম আপডেট: ০৬.০৯.২০২৫ ১০:১১ PM

ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে রিকশা চালানো থেকে শুরু করে সবজি বিক্রি ও রংমিস্ত্রির কাজও করেছেন এই বাবা
বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার নিজের ছেলে। আর সংসার চালাতে মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনের নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি করেন বাবা। আর ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে রিকশা চালানো থেকে শুরু করে সবজি বিক্রি ও রংমিস্ত্রির কাজও করেছেন এই বাবা।
সেই বাবার নাম আক্কাস আলী। ছেলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় জীবিকার তাগিদেই তিনি সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেটে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। মাস শেষে বেতন পান মাত্র ৮ হাজার টাকা। অথচ নিজের ঘাম ঝড়ানো পরিশ্রমের ফলে ছেলে এখন দেশের নামকরা ক্রিকেট তারকা। স্ত্রীসহ থাকছেন ঢাকায় বিলাসবহুল বাড়িতে।
অবশ্য এতে আক্কাস আলীর কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, “আমি একজন বাবা হিসেবে শুধু চাই নাসুম বড় কিছু হোক। নিজের জন্য আলাদা কিছু চাইনি, চাই না।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় নাসুমের পরিবারের সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও বিয়ের পর থেকে দূরত্ব তৈরি হয়। যে বাবা রিকশা চালানো, সবজি বিক্রি আর রঙের কাজ করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে জাতীয় দলে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আজ ছেলে থেকে আলাদা।
এ বিষয়ে জালাবাবাদ আবাসিক এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “নাসুমের বাবা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাকে বড় করেছেন। জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার পর মা মারা গেলে সে বাবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। তবে কেন এমন হলো, সেটা কেউই বলতে পারছে না।”
নিজের দায়িত্ব পালন করছেন দাবি করে নাসুম বলেন, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি। উনি আমাদের সঙ্গে থাকেন না। তাই আলাদাভাবে থাকেন। মাসে মাসে আমি টাকার একটি অ্যামাউন্ট দেই। তবে উনি কী করবেন, সেটা ওনার সিদ্ধান্ত।”
তবে আদরের ভাতিজাকে নিয়ে বলতে গিয়ে নাসুমের চাচা লুবন মিয়া বলেন, “আমাদের ভাতিজা খুব আদরের ছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকে ওর এমন পরিবর্তন কেন হলো, সেটা বুঝতে পারছি না।”