প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩২ পিএম

রাজবাড়ীর পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা মডেল ঘরে কৃষকেরা ভালো ফল পাচ্ছেন। কৃষি অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের মাধ্যমে চাষিরা দীর্ঘদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারছেন এবং চলতি বছরে বাজারে উচ্চ দামে বিক্রি করছেন।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির উঠান বা ফাঁকা জায়গায় মাত্র এক শতাংশ জমিতে টিন, বাঁশ, লোহা ও কংক্রিটের সমন্বয়ে নির্মিত এই ঘরে ছয়টি তাপ নিয়ন্ত্রণ ফ্যান এবং তিন স্তরের মাচা রয়েছে। চার লাখ টাকায় নির্মিত প্রতিটি ঘরে সংরক্ষণ করা যায় ৩০০–৪০০ মণ পেঁয়াজ। প্রতিটি ঘরে অন্তত পাঁচ কৃষক আলাদা স্তরে পেঁয়াজ রাখতে পারেন। এই ঘরে পেঁয়াজ ৯ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমি প্রতিবছর ৮ বিঘা জমিতে হালি পেঁয়াজ লাগাই। আগে টিনের ঘরে পেঁয়াজ রাখলে বেশির ভাগ নষ্ট হতো। গত বছর সরকার থেকে মডেল ঘর পেয়েছি। আমাদের ঘরে প্রায় ৩০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষিত আছে। জুলাই থেকে বিক্রি শুরু করেছি, এখনো কিছু পেঁয়াজ আছে। এবছর একটি পেঁয়াজও নষ্ট হয়নি। দামও ভালো পেয়েছি।”
পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম মিলল জানান, “এই বছরই প্রথম মডেল ঘরে পেঁয়াজ রাখছি। আমাদের দুই কাকাও পেঁয়াজ রেখেছে। এখনো বিক্রি শুরু করি নি। পেঁয়াজের রঙ আগের থেকে ভালো এবং একটি পেঁয়াজও পচেনি। ঘরটি ফাঁকা জায়গায় হওয়ায় ফ্যান চালাইনি এখনও। মৌসুমে পেঁয়াজের দাম মণ প্রতি ১২০০ টাকা ছিল, এখন বিক্রি করলে ২৫০০–৩০০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবো। ঘরটি আমাদের জন্য খুবই উপকারী।”
বালিয়াকান্দির চর-দক্ষিণবাড়ি এলাকার কৃষক গোলাম মোস্তাফা বলেন, “গত বছর মডেল ঘরে প্রায় ৩০০ মণ পেঁয়াজ রেখেছিলাম। দামও ভালো পেয়েছিলাম। এবছরও প্রায় ৩০০ মণ রাখছি। একটি পেঁয়াজও পচেনি। আমি ও আমার ছেলে ভাগাভাগি করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছি।”
জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাঠ কর্মকর্তা মো. রাজিব খান বলেন, “মডেল ঘরে পেঁয়াজ রাখার মাধ্যমে কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন। ঘরগুলো দেখেই অন্য কৃষকরা নিজেদের জন্য একই ধরনের ঘর তৈরি করতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এতে পেঁয়াজ নষ্ট হবে না এবং সুবিধাজনক সময়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।”
প্রতি বছর দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫–৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। মডেল ঘর নির্মাণের মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমানো সরকারের মূল লক্ষ্য।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ