প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ AM

দেশের প্রায় এক হাজার বালাইনাশক প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার ৬০৩টি পণ্যের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ পণ্যের। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কর্টেভা এগ্রিসায়েন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চারটি রাসায়নিক বালাইনাশক অনুমোদন দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির (পিটাক) ৯১তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সভায় ৪৫টি জৈব বালাইনাশকও অনুমোদন পায়।
সংশ্লিষ্ট দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন কার্যক্রম স্থবির থাকায় নতুন পণ্য বাজারজাতকরণ, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিটি পণ্যের নিবন্ধনের জন্য সরকারি ফি, পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেও তারা সিদ্ধান্ত পাচ্ছেন না। অথচ কর্টেভার চারটি পণ্যের অনুমোদন দ্রুত দেওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে বৈষম্যের প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, নতুন কার্যকর বালাইনাশকের অনুমোদন না পাওয়ায় ক্ষতিকর পোকামাকড় ও রোগ দমনে কৃষকেরাও সমস্যায় পড়তে পারেন।
অনুমোদিত পণ্য চারটি হলো সোলারিস ১১.৭ এসসি, গ্যালিলিও ওয়ে ১৮.৭৬ এসসি, গ্যালিলিও সেনসা ৩০ এসসি ও নোভিক্সিড ৩.৪১ ওডি। এগুলো ভুট্টা, ধান ও ঢ্যাঁড়শের বিভিন্ন পোকা, রোগ ও আগাছা দমনে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। সনদগুলোর মেয়াদ তিন বছর। এদিকে ডিএইর মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেছেন, পিটাকের সভা হয়েছে এবং কোম্পানিকে সনদ দেওয়া হয়েছে—এটুকুই তিনি জানেন; বিস্তারিত জানতে পিটাকের সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি