প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ৭:২২ পিএম আপডেট: ১৯.০৮.২০২৫ ৭:২৭ PM

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম-এর একটি ‘ব্যক্তিগত ভিডিও’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) ভিডিওটি প্রকাশের পর বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম বলেন, “আমার মতো ব্যক্তি কি এমন করতে পারে? এটি ভুয়া এবং আমার বিরুদ্ধে একটি চক্রান্ত। শুরু থেকেই একটা চক্র আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে। এটা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ।”
তিনি আরও দাবি করেন, “কিছু কোম্পানি ও ব্যক্তির স্বার্থে আঘাত পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে আমার অফিসে হওয়া মিটিং সংক্রান্ত ভিডিওগুলো জোড়াতালি দিয়ে এআই ব্যবহার করে একটি অসামাজিক ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
বিএফআইইউ প্রধান বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিবর্তনের পরে দেশের অর্থ পাচার রোধ ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি অনেকের শত্রু তৈরি করেছি। দেশের মানুষের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে মামলার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ফ্রিজ করতে হয়েছে। প্রতিদিন এই কাজ করতে গিয়ে শত্রু তৈরি হওয়ায় এটি একটি ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র।” তিনি সবাইকে মিথ্যা বা প্রোপাগান্ডা ভিডিও থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন।
ইতোমধ্যে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে এবং তারা তা নিয়ে তদন্ত করছে। এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম আরও বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক আমার প্রাণের প্রতিষ্ঠান। এর কোনো অপমান যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রকৃত অপরাধী ধরার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “বিএফআইইউ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।”
উল্লেখ্য, এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি বিএফআইইউ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি সংস্থাটির উপপ্রধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএফআইইউ মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার প্রতিরোধে কাজ করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ