প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৪১ পিএম

ময়মনসিংহের নান্দাইলে খারুয়া ইউনিয়নের টাওয়াইল গ্রামের কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় স্থানীয় পাঁচটি গ্রামের মানুষ সমস্যার মুখে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় ছয় মাস ধরে রাস্তার দুই পাশে মাটি ফেলে মাঝখানে বড় বড় গর্ত রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে কাদাপানি জমে সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। পথচারীরা বাধ্য হয়ে অন্য রাস্তা ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে সীমাহীন অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়রা জানান, নান্দাইল উপজেলার কানুরামপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পলাশিয়া বটতলা হয়ে খারুয়া বাজার পর্যন্ত একটি পাকা সড়ক রয়েছে। এর মাঝামাঝি পলাশিয়া তিনকোনা মোড় থেকে একটি কাঁচা রাস্তা পশ্চিমে টাওয়াইল বাজার হয়ে মধুপুর-দেওয়ানগঞ্জ পাকা সড়কের দিকে চলে গেছে। এই কাঁচা সড়কটি টাওয়াইল, খারুয়া, শিবপুর, পলাশিয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীরা প্রতিদিন উপজেলা সদর এবং বিভিন্ন বাজারে যাতায়াত করতে এই পথ ব্যবহার করেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা পাকাকরণের জন্য ৮৪ লাখ টাকায় দরপত্র আহŸান করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবেদীন ট্রেডার্স কাজ পাওয়ার পর ছয় মাস আগে রাস্তার দুই পাশে মাটি ফেলে মাঝখানে প্রায় দুই ফুট গভীর গর্ত খনন করেছে। এরপর থেকে কাজ স্থগিত রয়েছে।
টাওয়াইল গ্রামের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, “বর্ষাকালে এই সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করতে হয়।”
ঠিকাদার আবেদীন ট্রেডার্সের মালিক রায়হান বলেন, “বৃষ্টির কারণে সড়কে বালু ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টি কমলে কাজ শুরু হবে।” এলজিইডির নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বিশ্বাস বলেন, “ঠিকাদার যে বালু ব্যবহার করছিল, তা মানসম্মত ছিল না। তাই কাজের একটু দেরি হচ্ছে। ভালো কিছু পেতে হলে গ্রামের মানুষকে কিছুটা কষ্ট সহ্য করতে হবে।”
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু হলে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ