বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
গাজায় প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে গড়ে ২৮ শিশু: ইউনিসেফ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫, ৯:১৯ পিএম

ইসরায়েলের লাগাতার বোমা হামলা ও কঠোর মানবিক সহায়তা নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজায় প্রতিদিন গড়ে ২৮ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। 

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কেবল গোলার আঘাতেই নয়, খাদ্য, ওষুধ ও নিরাপত্তার অভাবেও গাজার শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া পোস্টে ইউনিসেফ বলেছে, “বোমায় মৃত্যু, অপুষ্টি ও অনাহারে মৃত্যু, সহায়তা ও জরুরি সেবার অভাবে মৃত্যু—গাজার শিশুদের প্রতিদিনই মৃত্যুর নানা রূপ দেখতে হচ্ছে।”

সংস্থাটি আরও জানায়, প্রতিদিন স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষে বসা শিক্ষার্থীর সমানসংখ্যক অর্থাৎ ২৮ শিশু মারা যাচ্ছে। তাদের বেঁচে থাকার জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং নিরাপত্তা প্রয়োজন। কিন্তু এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো যুদ্ধবিরতি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় যে যুদ্ধ শুরু করে, তাতে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ৯৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ২৭ জন। নিহতদের মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি শিশু। গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই যুদ্ধের কারণে।

সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মারা গেছেন আরও আটজন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে একজন শিশু। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে এখন পর্যন্ত অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮৮ জন, এর মধ্যে ৯৪ জনই শিশু।


আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার বাস্তুচ্যুত শিশু কাদিম খুফু বাসিম জানায়, তার বাবা চিকিৎসার জন্য মিসরে আছেন, ফলে পরিবারের ভার পড়েছে তার ওপর। “আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসতাম, কিন্তু এখন বিস্কুট বিক্রি করি। যুদ্ধ আমার শৈশব কেড়ে নিয়েছে। এখন আর আমাদের শৈশব নেই।”

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বাসিমের মতো শিশুদের যুদ্ধের প্রভাব থেকে রক্ষা করার কথা থাকলেও বাস্তবে গাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো।

১০ বছরের শিশু লানার কথাই ধরা যাক। বোমা বিস্ফোরণের মানসিক ধাক্কায় তার ত্বক ও চুল সাদা হয়ে গেছে। চিকিৎসকদের ভাষায়, এটি ট্রমা-জনিত ডিপিগমেন্টেশন। এখন সে শুধু তার পুতুলের সঙ্গেই কথা বলে। তার মা মাই জালাল আল-শরিফ বলেন, “লানা পুতুলকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি আমার সঙ্গে খেলবে? নাকি সবার মতো আমাকেও নিয়ে হাসবে?”

সেভ দ্য চিলড্রেনের আঞ্চলিক পরিচালক আহমাদ আলহানদাভি বলেন,
“গাজা এখন শিশু ও তাদের স্বপ্নের জন্য কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি শিশুর কাছে এটি এক দুঃস্বপ্ন, যেখান থেকে পালানোর কোনো পথ নেই। এই প্রজন্ম বিশ্বাস করছে, বিশ্ব তাদের ফেলে রেখেছে, কেউ আর তাদের পাশে নেই।”

সূত্র: আল জাজিরা

স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ


আরও সংবাদ   বিষয়:  গাজা   ইসরায়েলি  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close