প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫, ১:১৪ পিএম আপডেট: ৩১.০৭.২০২৫ ১:১৮ PM

স্বপ্নের ইউরোপে পৌঁছাতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হন হাজারো মানুষ। ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারানো এসব অভিবাসীদের সমাধি ছড়িয়ে আছে ইতালি, গ্রিস ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে। তাদের নাম-পরিচয় অনেকে মেলেনি বলেই অধিকাংশ কবরের এপিটাফে লেখা থাকে মাত্র একটি শব্দ—‘অভিবাসী’।
গ্রিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এভরস অঞ্চলের একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এক নির্জন কবরস্থানে প্রার্থনায় মগ্ন ৭৩ বছর বয়সী মেহমেত শরীফ দামাদোগলু। এভরস অঞ্চলটি গ্রিস-তুরস্ক সীমান্তবর্তী, যা ইউরোপে অনুপ্রবেশের অন্যতম স্থলপথ হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ বছরে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে এবং বিশাল এভরস নদীতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। তাদের অধিকাংশেরই পরিচয় অজানা রয়ে গেছে।
অভিবাসীদের ইউরোপে প্রবেশের আরেকটি প্রধান পথ হলো ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় ল্যাম্পেদুসা দ্বীপ। উত্তর আফ্রিকার তিউনিসিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকে রাবারের নৌকায় করে এই পথ পাড়ি দেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকাডুবির কারণে অনেকেই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ফেলেন সাগরের বুকে। যাদের মরদেহ পাওয়া যায়, তাদের দাফন করা হয় দ্বীপটির স্থানীয় কবরস্থানে। এসব সমাধিতেও পরিচয়ের বদলে শুধু লেখা থাকে—‘অভিবাসী’।
এছাড়াও আফ্রিকার উপকূলবর্তী দেশ মৌরিতানিয়ায় অভিবাসীদের আরেকটি কবরস্থান রয়েছে, যার নাম সাঈদ কবরস্থান। এখানে দাফন করা হয় সেইসব ভাগ্যাহত মানুষদের, যারা ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেও নিজ দেশের জলসীমা পেরোতে পারেননি। ২০২৪ সালে মৌরিতানিয়ার উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয় পাঁচ শতাধিক মরদেহ। আর ২০২৫ সালের প্রথম কয়েক মাসেই মিলেছে আরও শতাধিক মৃতদেহ।
এই সমস্ত অচেনা কবরগুলো হয়ে উঠেছে মানবিক বিপর্যয়ের নীরব সাক্ষী। তাদের নাম নেই, পরিচয় নেই, আছে শুধু একটি পরিচায়ক শব্দ—‘অভিবাসী’।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ