প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম

চট্টগ্রামের পাথরঘাটা পুরাতন ফিশারি ঘাট বাজারে সারি সারি ঝুলিয়ে রাখা অদ্ভুত আকৃতির বস্তুগুলো দেখে সাধারণ শুঁটকি কিংবা প্লাস্টিকের আবরণ মনে হতে পারে। কিন্তু এগুলো আসলে সমুদ্রের ‘সাদা সোনা’ হিসেবে পরিচিত মাছের শুঁটকি করা পটকা বা বায়ুথলি।
সামুদ্রিক ভোল, পোয়া, লাক্কা বা কামিলা মাছের পেট থেকে সংগ্রহ করে সযত্নে রোদে শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয় মহামূল্যবান এই সামুদ্রিক পণ্য। মাছের শরীরে ভাসমানতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এই বায়ুথলিই প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান পণ্যে পরিণত হয়।
আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও উচ্চমাত্রার কোলাজেন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ এই পটকার কদর রয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে চীন, হংকংসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এর চাহিদা বেশি। সেখানে বিলাসবহুল সি-ফুড স্যুপ তৈরির পাশাপাশি ত্বকের যত্ন ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহারের কথা জানা যায়।
পটকার মান, আকার ও প্রজাতিভেদে এর দামেও রয়েছে বড় পার্থক্য। দেশের বাজারে প্রতি কেজি পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয় এসব পটকা। ফলে মাছের পাশাপাশি মাছের পেটের এই অংশও উপকূলীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
চট্টগ্রামের মৎস্যবাজারে প্রক্রিয়াজাত এসব পটকা সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য আলাদা বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে। সংগ্রহের পর পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য করে তোলা হয়। এরপর মান ও চাহিদা অনুযায়ী দেশীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও করা হয়।
সমুদ্র থেকে পাওয়া সাধারণ মাছের একটি অংশ হিসেবে যে পণ্যটি অনেকের কাছে অচেনা, আন্তর্জাতিক বাজারে সেটিই হয়ে উঠেছে মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ। উপকূলীয় মানুষের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের পটকার এই বাণিজ্য বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদভিত্তিক রপ্তানির ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার নতুন দিক তৈরি করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি