হল দখলকারীদের ছাত্রলীগের মতোই পরিণতি হবে: আ. কাদের

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বলেছেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে হল দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) মতো পরিণতি বরণ করতে হবে।
বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় শামসুন্নাহার হল কালো দিবস স্মরণে রাজু ভাস্কর্যে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ আয়োজিত মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২৩ জুলাই ঢাবিতে শামসুন্নাহার হল কালো দিবস পালন করা হয়। ২০০২ সালের এই দিনে শামসুন্নাহার হলে রাত ১২টার দিকে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত হল প্রাধ্যক্ষকে সরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলের গেট ভেঙে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ। এতে অসংখ্য ছাত্রী আহত হয়।
তারই প্রতিবাদে ২০০৩ সাল থেকে ছাত্র-শিক্ষকরা প্রতিবছর ২৩ আগস্টকে কালো দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও বিক্ষোভের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ।
আব্দুল কাদের বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি যারাই ক্ষমতায় আসেন তারা ঢাবি শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে দাসত্বের রাজনীতি কায়েম করে। আমরা শিক্ষাঙ্গনে আমূল পরিবর্তন চাই।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ হল দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করেছে হলে কোন রাজনীতি চলবে না। তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ হলে কোন রাজনীতি করবে না। হলে রাজনীতি চালু হলে আবারও শামসুন্নাহার হল ট্রাজেডির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে হল প্রশাসন কৃত্রিম সিট সংকট তৈরি করে হলে ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ক্যাম্পাসে একটা কালচার আছে যেটি শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে চলতে দেয়না।
কর্মসূচিতে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাবি শাখার মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি কখনোই সুখকর রাজনীতি উপহার দিতে পারেনি। তারা সরকারের পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা লেজুড়বৃত্তিক ও হল দখলের রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখিয়েছে।
সিনিয়র সদস্য সচিব আল আমিন সরকার বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছর আগে শামসুন্নাহার হলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন হলে ঢুকে ছাত্রীদের ওপর যে হামলা চালিয়েছে আমরা তার নিন্দা জানাই। আমরা সহবস্থানের রাজনীতি চাই। ভবিষ্যতে যেন এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে আমরা সে দাবি জানাচ্ছি।
ঢাবি শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব রিয়ন মনি বলেন, ২০০২ সালে শামসুন্নাহার হলে যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছিলো, আমরা এখনো সেটার বিচার পাইনি। যে ছাত্রলীগ এত বড় ফ্যাসিস্ট ছিলো তারাও মেয়েদের হলে ঢুকে হামলার সাহস পায়নি। কিন্তু ছাত্রদল মধ্যরাতে হলের গেট ভেঙে ঢুকে মেয়েদের ওপর হামলা করে। এখন তারা সেই হামলাকে জাস্টিফাই করে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছে। আমারা ক্যাম্পাসে এমন রাজনীতি চাই না।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে