
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিকে ‘অমানবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার পর থেকে তাঁরা ভেতরে আটকা পড়েন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবন থেকে বের হতে পারেননি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ক্যাম্পাসে যেতে পারছিলেন না নতুন উপাচার্য। সোমবার সকালে তাঁর ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা উপাচার্যকে কার্যালয় ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেন।
এর আগে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন উপাচার্য। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারও তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে উপাচার্যসহ ১১ জন ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। তাঁদের মধ্যে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, চারজন সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।
সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সোমবার রাত ১১টার দিকে রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা উপাচার্য ভবনে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার অনুরোধ জানান।
পরে রাতে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁরা জানান, উপাচার্য পদত্যাগ করে চলে গেলে ভবনের তালা খুলে দেওয়া হবে। অন্যথায় আগের উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হতে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি।
উপাচার্য বলেন, ‘আমার সঙ্গে চারজন অ্যালামনাই আছেন। একজন আমার বন্ধু, দুজন বড় ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রও আছে ৬-৭ জন। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করুক, সমস্যা নেই। কিন্তু আমি দপ্তরে এলাম ৯টায়, এর দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই এভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেওয়াটা অমানবিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত দাবি আমার কাছে নেই। তাদের কোনো বক্তব্য সম্পর্কেও আমি অবগত নই। তারা যদি লিখিত আকারে দাবি দেয়, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিকে অবহিত করতাম।’
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ বলেন, ‘তিনি যে এভাবে আসবেন, আমরা ভাবিনি। আমরা আমাদের অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। উনি তো খুব বলতেন, ওনার সঙ্গে অনেক শিক্ষক আছে, ছাত্র আছে। এখন তারা তাকে সাহায্য করুক।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি