প্রেমিকার সঙ্গে কথোপকথনের পর বিষপান, ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা গেলেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী রাতুল
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ AM

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেমিস্ট্রি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাধন রাতুল (১৯) মারা গেছেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
রাতুলের মৃত্যুর খবরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর শহর ও তাঁর নিজ গ্রাম ঈশ্বরচন্দ্রপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও বন্ধুরা শোকাহত।
রাতুল চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের নইমুদ্দিন পল্টুর ছেলে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন তিনি। দর্শনার অঙ্কুর কেজি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তিসহ গোল্ডেন প্লাস অর্জন করেন। পরে কেরু উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে এবং দর্শনা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে শাবিপ্রবির কেমিস্ট্রি বিভাগে ভর্তি হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন রাতুল। পরে তাঁর বন্ধুরা তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর কিডনিতে জটিলতা দেখা দেয়। পরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা চালানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার বাদ আসর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাতুলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বন্ধুরা রওনা হন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
রাতুলের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি। তাঁর মা মোছা. শাহিনা আক্তার ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতুলের মা ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকাহত তাঁর স্বজন, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। রাতুলের অকালপ্রয়াণে পরিবার ও বন্ধুমহলে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি