প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫, ১২:০৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি
সৌরজগতের কেন্দ্রে থাকা আমাদের সূর্যকে ঘিরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল কখনোই থেমে থাকেনি। সূর্যের গঠন ও বিভিন্ন স্তরের রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গবেষণা চলছে। এই ধারাবাহিকতায় এবার নাসা নজর দিয়েছে সূর্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর ক্রোমোস্ফিয়ারের দিকে। সৌর করোনার তুলনায় অপেক্ষাকৃত শীতল হলেও এই অঞ্চলটি বেশি ঘন এবং অত্যন্ত গতিশীল।
সম্প্রতি সূর্যের এই স্তর পর্যবেক্ষণের জন্য বিজ্ঞানীরা একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।
গতকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এই নতুন কৌশল কাজে লাগিয়ে মহাকাশে একটি সাব-অরবিটাল সাউন্ডিং রকেট পাঠিয়েছে। এর মাধ্যমে সূর্যের ক্রোমোস্ফিয়ার সম্পর্কে আরও গভীর ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায়, সূর্যের আলোকমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যবর্তী এই লালচে স্তরটি থেকেই সৌরশিখা, উত্তপ্ত প্লাজমা জেট এবং শক্তিশালী শক্তির প্রবাহের সূত্রপাত হয়। এখানকার তাপমাত্রা প্রায় ৬ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে শুরু হয়ে ১০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি পর্যন্ত হতে পারে।
উল্লেখ্য, পাঠানো এই রকেটে রয়েছে একটি বিশেষ সৌর স্পেকট্রোগ্রাফ যন্ত্র যা সোলার ইরাপশন ইন্টিগ্রাল ফিল্ড স্পেকট্রোগ্রাফ। যন্ত্রটি মাত্র ১০ মিনিটের জন্য সূর্যের ক্রোমোস্ফিয়ার পর্যবেক্ষণ করবে, তবে এই সময়েই এটি সংগ্রহ করবে সূর্যের চৌম্বকীয় সক্রিয় অঞ্চল ও ট্রানজিশন লেয়ারের উচ্চ রেজল্যুশনের স্পেকট্রোস্কোপিক তথ্য।
এই বিষয়ে বিজ্ঞানী শৌভিক বোস জানান, “স্পেকট্রোগ্রাফটি একটি নতুন ধরনের সৌরযন্ত্র যা অতিবেগুনি তরঙ্গ ব্যবহার করে সূর্যের তথ্য সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে সূর্যের দ্বিমাত্রিক ক্ষেত্রের পূর্ণাঙ্গ ছবি তোলা যাবে এবং বর্ণালির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।”
এই অভিযান থেকে বিজ্ঞানীরা সৌর প্লাজমার তাপমাত্রা, গতি ও ঘনত্বের হিসাব করতে পারবেন।
গবেষকদের মতে, সূর্যের করোনা এত গরম হওয়ার রহস্য বুঝতে হলে আগে ক্রোমোস্ফিয়ারে কী ঘটে তা জানতে হবে। আর এই মিশন সেই রহস্যের দ্বার খুলে দিতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস