প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫, ৪:৩৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯ জনে। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে, এবং এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৬১ জন।
পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও উদ্ধারকর্মীরা এখনো কাদামাটিতে ঢেকে যাওয়া নদীর তীরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে নতুন করে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কার কাউন্টিতে। সেখানেই গুয়াদালুপে নদীর পানি শুক্রবার ভোরে হঠাৎ প্রবলভাবে বেড়ে যায়, যার ফলে ভয়ংকর রূপ নেয় দুর্যোগটি। ৪ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের ছুটির দিনেই ঘটে এই বিপর্যয়।
কাউন্টিতে মারা যাওয়া ৮৭ জনের মধ্যে ৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৩১ জন শিশু। এখনো পর্যন্ত ১৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৭ শিশুর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় শেরিফ অফিস।
নিহতদের মধ্যে ‘ক্যাম্প মিস্টিক’ নামের একটি খ্রিস্টান গার্লস সামার ক্যাম্পের ২৭ জন শিক্ষার্থী ও কর্মীও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে ওই ক্যাম্পের ৭০ বছর বয়সী সহ-পরিচালক রিচার্ড ইস্টল্যান্ড নিজেও প্রাণ হারান।
এদিকে, জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (NWS) ও তাদের মূল সংস্থা NOAA-তে কর্মী ছাঁটাই এবং বাজেট সংকোচনের কারণে সতর্কতা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল বলে কেউ কেউ অভিযোগ তুলছেন।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটা ছিল ঈশ্বরের কর্ম। প্রশাসনের কোনো গাফিলতি নেই। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা যথাসময়ে বারবার সতর্কতা জারি করেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা এই বন্যাকে গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: এএফপি ও ওয়াশিংটন পোস্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/আরএফ