প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ৬:৫১ পিএম আপডেট: ১৭.০৬.২০২৫ ৮:৩৪ PM

তেহরানে ইসরায়েলি হামলার পর এক নারী তার শিশুকে কোলে নিয়ে কান্না করছেন। ছবি: রয়টার্স
ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর রাশিয়া এর নিন্দা জানিয়েছে। তবে মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গিতে কেবল সমর্থন নয়, বরং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—বিশেষ করে যখন ইরান তাদের পুরোনো মিত্র, আর ইসরায়েল সঙ্গেও রাশিয়ার কিছু সমন্বয়মূলক সম্পর্ক রয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহত হয়েছেন আড়াই শতাধিক লোক, অপরদিকে ইরানি পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ গেছে ২৪ জনের। এই সংঘাতের মধ্যেই রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানায়।
ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক কতটা গভীর?
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইরান ও রাশিয়া উভয়ই সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে হস্তক্ষেপ করে। এরপর রাশিয়ায় ইরানি কামিকাজে ড্রোন ‘শাহেদ’ সরবরাহ করা হয় এবং ‘ফাতেহ-৩৬০’ ব্যালিস্টিক মিসাইলও পায় রাশিয়া। যদিও এখন রাশিয়া নিজেই এসব ড্রোন তৈরি করছে।
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন আজারবাইজানের বাকুতে অবস্থানরত মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ রুসলান সুলেমানোভ। তিনি জানান, “ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে আরও সামরিক ও পরমাণু প্রযুক্তির প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু মস্কো সেই পথে যায়নি—মূলত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত।”
‘ইসরায়েলের দুর্বলতা রাশিয়ার স্বার্থে’: রুশ মিডিয়া বিশ্লেষক
রুশ জাতীয়তাবাদী টিভি ব্যক্তিত্ব সের্গেই মারদান বলেন, “যখন আপনার শত্রুর মিত্র থাকে, তারা স্বাভাবিকভাবেই আপনার শত্রু। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের দুর্বলতা আমাদের জন্য লাভজনক।”
মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব কমছে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রভাব আগের তুলনায় কমেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে বিশ্লেষক সুলেমানোভ বলছেন, “রাশিয়া নিজেই এখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত এবং তাদের নিজস্ব মধ্যস্থতাকারীর দরকার।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যে, এতে করে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে মনোযোগ কিছুটা সরছে—এটা ক্রেমলিনের জন্য লাভজনক হতে পারে।” তথ্যসূত্র : আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ