
চিকিৎসা নিতে লন্ডনে যাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী মঙ্গলবার (৬ মে) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন।
তবে তার দেশে ফেরার জন্য নির্ধারিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিমানবালাদের চূড়ান্ত তালিকা থেকে দুজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সরিয়ে দেওয়া দুই কেবিন ক্রু হলেন আল কুবরুন নাহার কসমিক ও মো. কামরুল ইসলাম।
বিমানের এক কর্মকর্তা জানায়, মূলত নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ আছে, আল কুবরুন নাহার কসমিক নিয়মিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ফ্লাইট পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে সরকারি সুবিধা ভোগ করতেন তিনি। চাকরিজীবনে তিনি ১৮ বার কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন এবং শাস্তি হিসেবে একাধিকবার গ্রাউন্ডেড হয়েছেন।
এদিকে , জুনিয়র পার্সার কামরুল ইসলাম বিপন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দলের নানা কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত থাকা, ১৫ আগস্ট নিয়মিত ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দেওয়া, শেখ কামালের জন্মদিনে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা এবং বিমানে শেখ রাসেল দিবস পালন ইত্যাদির অভিযোগে অভিযুক্ত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কী কারণে তাদের শিডিউল পরিবর্তন করা হয়েছে জানা নেই। আমি ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের ডিজিএমকে ফোন করেছিলাম। তিনি কিছু বলতে পারেননি।
তবে কেউ অসুস্থ হলে, কোনো কারণে না আসতে চাইলে বা ছুটি থাকলে ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগ সূচি বদলাতে পারে। এটা খুবই ছোট বিষয়।
উল্লখ্যে, দুইজন কেবিন ক্রুর অন্তর্ভুক্তিকরণ ও পরে ফ্লাইট থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের লগবুক দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে। লগবুকের তথ্যানুযায়ী, কসমিক ও বিপনের পরিবর্তে পরে ফ্লাইট পার্সার ডিউক এবং আনহারা মারজানকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ওই ফ্লাইটে এ দুইজনসহ মোট ৫ জন কেবিন ক্রু থাকবেন।
এই ফ্লাইটে খালেদা জিয়া, তার দুই পুত্রবধূ, বিএনপির একাধিক নেতা ও চিকিৎসক দল থাকবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম