
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন চক্র বিদেশে অবস্থান করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে এবং দেশের ভেতরে থাকা একটি ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ গোষ্ঠী তাতে সায় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, বিদেশে অবস্থান করে শেখ হাসিনা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। দেশের ভেতরে থাকা ‘গুপ্ত ও সুপ্তরা’ সেই ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে রিজভী এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর দাবি, বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলেও জনগণ তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে জেগে আছে। রাজপথ কোনো দলের কাছে বিক্রি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রাজপথ দেশের মেহনতি মানুষের। বিএনপি অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়েও বক্তব্য
বক্তব্যে বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভীর দাবি, সংকটের মধ্যেও সরকার দেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। এডিবির মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে দেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে। একই বক্তব্যে তিনি সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
লংমার্চে গাড়িবহর নিয়ে প্রশ্ন
বিরোধী দলের একটি লংমার্চে ব্যবহৃত গাড়ির বহর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে যমুনা সেতু দিয়ে ওই কর্মসূচিতে প্রায় সাড়ে ৪০০ গাড়ি চলাচলের হিসাব পাওয়া গেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির এক হাজার গাড়ির কথা বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভী প্রশ্ন করেন, এত গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম বা রংপুরে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না। তাঁর মতে, জ্বালানি সংকটের সময়ে অতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহার না করে জ্বালানি সাশ্রয় করা হলে দেশের জন্য তা উপকারী হতো।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী। এতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি