প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ডেমোক্র্যাটদের সুসংগঠিত প্রচার, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা এবং হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থনে পরিবর্তন দলটির পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কারণ তুলে ধরেছে বিবিসি।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে পণ্যের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অক্টোবরের শুরুতে খুচরা পর্যায়ে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ৫২ সেন্টের কাছাকাছি পৌঁছায়। ভোটারদের এক জরিপে ৭৯ শতাংশ জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে গত এক বছরে তারা ও তাদের পরিবার গুরুতর বা মাঝারি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। উত্তরদাতাদের বড় একটি অংশ এ পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেছেন।
ডেমোক্র্যাটদের সুসংগঠিত প্রচার: এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার মতো সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে প্রচারের কেন্দ্রে রেখেছেন। টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা ও মিশিগানের মতো অঙ্গরাজ্যে প্রার্থীরা নিজেদের বার্তা ভোটারদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে পেরেছেন। অন্যদিকে, কেন প্যাক্সটনের মতো কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রচার ভোটারদের উদ্বেগ ও চাহিদা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এমনকি ট্রাম্পও ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারের প্রশংসা করেছেন।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা: পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ—দুটি বিষয়েই ভোটারদের অসন্তোষ সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেছে। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প নিজেকে কেন্দ্রে রেখে ভোটারদের কাছে নিজের প্রতি সমর্থন চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই কৌশল কাজে আসেনি; বরং তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ নির্বাচনে দলটির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থনে পরিবর্তন: ২০২৪ সালের নির্বাচনে হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছিল। এবারের নির্বাচনে সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা গেছে। টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ তিনটি কংগ্রেসনাল আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থন ২২ শতাংশের বেশি কমেছে। অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে অসন্তোষও ভোটারদের অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ শতাংশ নাগরিকের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি