প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনা ও একে অপরকে দোষারোপ। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দলটির সবচেয়ে হতাশাজনক নির্বাচনি রাত হিসেবে দেখা হচ্ছে এবারের ফলাফলকে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরাজয়ের পর ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচনে হারের কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কেউ কেউ ইরান সংঘাত থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। আর এখান থেকে আমাদের কোথায় যাওয়া উচিত, সে বিষয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা সেখান থেকেই শুরু হতে হবে।’ হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ভ্যান্সের বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটা একমত হলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তে ভুল ছিল না বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আপনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দিতে পারেন না।’ সুযোগ পেলেও তিনি ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন না বলেও জানান।
ভ্যান্সের বক্তব্যকে অনেকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। তাঁদের ধারণা, রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ট্রাম্পের নীতির দায় থেকে কিছুটা দূরে সরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি। অন্যদিকে, এবারের ফলাফলকে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আন্দোলনটির প্রভাব কমতে শুরু করতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি