নানা অনিয়মের অভিযোগ সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সেই ইদ্রিস আলী খান এর বিরুদ্ধে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৩ AM

অনিয়ম আর দূর্নীতি যেন জিবনের সাথে মিশে আছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা এলজিইডির সেই আলোচিত প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস আলী খানের। যেখানেই যান তিনি চলেন ব্যক্তি স্বাধীনতায় করেন নানা অনিয়ম।অফিস কিংবা ঠিকাদার যে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। সময়মতো অফিস না করা অফিস না করেই খাতায় সই করা এবং অফিস করেন পাবনা শহর থেকে এলজিইডির গাড়ি ব্যবহার করে যা কোন নিয়মের মাঝে পরেনা। নিয়মিত কাজের সাইড থেকে কারনে অকারণে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া এবং না দিলে তাদের কাজ এবং বিল আটকে দেওয়াসহ নানা অনিয়ম করে আসছেন বহাল তবিয়তে।
২ নভেম্বর সকাল ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তার কক্ষের সামনে একাধিক ঠিকাদার ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য মানুষ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ এর জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করলে তারা কেউ বলেন তিনদিন ধরে এসেও তার সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে গিয়েছেন আবার কেউ কৈউ বলেন উনি কখন আসে কখন যায় অফিসও কিছু বলতে পারেনা। আমরা দিনের পর দিন হয়রানি হচ্ছি। এভাবে একটা অফিস চলতে পারেনা উনি এখানে যোগদানের পর থেকেই এমন অনিয়ম শুরু হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন তাঁর চাহিদা মাফিক টাকা না দিলে উনি ফাইল সই করেন না নিয়মের মাঝে কাজ করলেও অজানা কারনে বন্ধ করে দেন। রাস্তা কার্পেটিং এর আগে ঝাড়ু দেওয়া হয় যেখানে একজন ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট গেলেই যথেষ্ট। কিন্তু সেখানে তিনি বিভিন্ন সময় গিয়ে গাড়ির তেল ও ড্রাইভার এর খরচ বাবদ টাকা দাবী করেন না দিলে নানা গালিগালাজ করেন এমনকি বিল আটকে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন যার ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়।
অফিসে থাকা কর্মকর্তা কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করলে তারা কেউ প্রকৌশলীর বিষয়ে কোন কিছু বলতে না পারলেও হিসাব রক্ষক আবুল বাসার বলেন স্যার সাইডে আছেন। কোন সাইডে আছেন তার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি পরে জানা যায় এখন কোন সাইড চলছেনা তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আতাইকুলা বাজারে একটি যানজট নিরসনের কর্মসূচিতে যোগদান করেছেন। যে বাজারের অবস্থান পাবনা সদরে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে এভাবে তিনি সারাদিন কোন কর্মসূচিতে যেতে পারেন কি না এবিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন আমরা ছোট পোস্ট এ কাজ করি স্যারদের নিয়মনীতি নিয়ে কিছু বলতে পারবোনা। আবার তিনি যে গাড়ি ব্যবহার করেন সেটারও জ্বালানি ও ড্রাইভার এর ব্যয় অফিস বহন করে না যার ফলে কাজে অনিয়ম ও ঠিকাদারকে চাপ সৃষ্টি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন।
গণমাধ্যম কর্মীরা কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান বলেন আপনারা বসেন আমি আসছি। বেলা ২.৩০ মিনিটে গাড়িতে করে অফিসে আসেন। তার এই গাড়ি ব্যবহার করে উপজেলার বাহিরে যাওয়ার নিয়ম আছে কি না বা গাড়ির জ্বালানি খরচ ও ড্রাইভার এর বেতন সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রদান করে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন অফিস দেয়না আমি নিজে বহন করি। আর গাড়ি উপজেলার বাহিরে নিলে কি হবে। সবকিছু কি নিয়ম মেনে হয়! আমি থাকি শহরে এখানে আসবো কি করে। এ কথার পিঠে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন এটা তো অনেক ব্যয়বহুল ব্যয় মেটান কিভাবে তখন প্রকৌশলী বলেন এদিক সেদিক করে মেটাতে হয় বোঝেন তো গাড়িতে চড়ে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে।
এক পর্যায়ে তিনি বলেন ভাইরে সব অফিসেই এমন অনিয়ম হয় কে নিয়মে আছে বলেন। দেশটাই তো অনিয়মে ভরা আমি করলে কি হবে।
এই সেই উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী যে বিগত সময়ে পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলায় ঠিকাদারদের কাছ থেকে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে ঘুষ আদায়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যা নিয়ে তিনি বিপুল সমালোচনার মুখে পরেন এবং তার বিরুদ্ধে তেতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কিন্তু তদন্ত কমিশনের সাথে দেখা না করতে তিনি গা ঢাকা দিয়ে তদন্ত চলমান অবস্থায় স্টান রিলিজ করে তাকে নিজ জেলা পাবনার সাঁথিয়ায় বদলি করা হয়।
প্রকৌশলীর এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চেয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তার ফোন রিসিভ না হওয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে পাবনা জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলাম স্বদেশ প্রতিদিন কে বলেন সরকারিভাবে উপজেলা প্রকৌশলীদের গাড়ি ব্যবহার বা উপজেলার বাহিরে গাড়ি নিয়ে আসার কোন নিয়ম নেই। কিন্তু শুনেছি তিনি পাবনা শহরে বসবাস করেন এবং নিয়মিত এখান থেকেই গাড়ি নিয়ে চলাচল করেন। সেই গাড়িতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভ্রমণেও যান। আবার গাড়ির ড্রাইভার ও জ্বালানি খরচ সরকার দেয়না এটা উনি সম্পূর্ণ অনিয়মের মধ্য দিয়ে করছেন। এটাও শুনেছি উনি কাজের সাইডে গিয়ে গাড়ির জ্বালানি খরচ ও ড্রাইভার এর খরচ মেটাতে ঠিকাদারদের অনেক হেনেস্তা করে। আপনাদের মাধ্যমেও জানলাম এখন লিখিত আকারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। আমরা সরকারের চাকুরী করি নিয়মের বাহিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি