প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ AM

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দীনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, টেন্ডারে অনিয়ম ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমীর হামজা পিন্টু। অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং দুদকের চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্র ও এর সংযুক্ত নথি বিশ্লেষণের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমএসআর সামগ্রী না কিনে পুরোনো মালামাল রং করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। একইভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিচ্ছন্নতা ও মনিহারি সামগ্রী কেনার নামে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডারে বিভিন্ন আকারের ময়লার বিন কেনার জন্য ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪৫০ টাকা, আইপিএস ও ফিটিংসের জন্য ৩ লাখ ৭১ হাজার ২৫০ টাকা, রেফ্রিজারেটর কেনায় ১৮ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০টি স্প্লিট এসি কেনায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ঘাস কাটার ও ফটোকপি মেশিন কেনার জন্যও ২১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দাম দেখিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮ হাজার ৯৭৪ টাকার বিল প্রদর্শনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আমীর হামজা পিন্টু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মে জড়িত। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়া এবং হাসপাতালের প্রধান ফটক বন্ধ রাখার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, অনিয়মের প্রমাণসহ দুদকে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাজনিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিলন হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ই-জিপিতে কাগজপত্র জালিয়াতি করে আবেদন করার সুযোগ নেই; তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দীনও অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট নথি পেতে দাপ্তরিকভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, সুজনের মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল হোসেন কচি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি