প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ বাড়াতে ৩৫৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ অর্থ দিয়ে ১১৫টি যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে আরও ৫০টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইতিতে ৫২৫ সদস্যের তিনটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট পাঠানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৬ অক্টোবর অর্থ বিভাগের কাছে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠায়। পুলিশ সদরদপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, হাইতিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনে দ্রুত পুলিশ মোতায়েনের সক্ষমতা বাড়াতে এসব যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রয়োজন। হাইতিতে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তার জন্য ১৭৫ সদস্যের তিনটি ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল ইউনিটগুলোর প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের প্রস্তুতি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
প্রস্তাবিত ১১৫টি যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ১৮টি পুলিশ সাঁজোয়া সুরক্ষিত যান, ৯টি ক্রাউড কন্ট্রোল ভেহিকেল, সাতটি এপিসি ও অ্যাম্বুলেন্স, পাঁচটি নিরস্ত্র এপিসি এবং চারটি সশস্ত্র এপিসি। এ ছাড়া ট্রাক, জিপ, পানির ট্যাংকার, বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ৫০টি যানবাহন কেনার জন্য ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরে শান্তি মিশনের যানবাহন কেনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৪০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
পুলিশ সদরদপ্তরের হিসাবে, হাইতির তিনটি ইউনিট, দুটি এফপিইউকে র্যাপিড ডিপ্লয়মেন্ট লেভেলে (আরডিএল) উন্নীত করা এবং একটি ইউনিট স্ট্যান্ডবাই রাখাসহ মোট ২১৩টি যানবাহন প্রয়োজন। বর্তমানে জাতিসংঘের অধীনে ৩৭১ জন বাংলাদেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ৩১৮ জন দুটি এফপিইউতে কর্মরত। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়ায় জাতিসংঘ মিশনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে পুলিশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। গত ৩৭ বছরে ২১ হাজার ৮১৬ জন পুলিশ সদস্য বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি