
দেশের প্রাচীনতম জেলা পাবনা এ জেলায় প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের বসবাস আর এই বিপুল সংখ্যক মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা সদর হাসপাতাল যেখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও ভর্তিকৃত চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজারের অধিক। কিন্তু দীর্ঘদিন নানা সংকটের কারনে হাসপাতালে আগত মানুষ কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় আগত বিপুল সংখ্যক রোগীর কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা প্রদান অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে হাসপাতালের বহিঃ বিভাগ এবং অন্তঃ বিভাগের সার্ভিস এরিয়ায় যাতায়াতের রাস্তা একই হওয়ায় প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো রোগী, রোগীর দর্শনার্থী, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের চলাচলে তীব্র জট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে বেশিরভাগ সময় চিকিৎসকদের ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্বেও চিকিৎসা সেবা দিতে অপারগ হয়ে পরছেন। কেননা চিকিৎসা দেওয়া নেওয়ার যে পরিবেশ বা অবকাঠামো থাকা দরকার সেটা নেই। এরই মাঝে মানুষের চিকিৎসা সেবার মান বাড়াতে ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যাতে পায় সেজন্য প্রায় ১৮,০০,৪৭,২৭০/১৪ টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ে একটি ৬তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মানের প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, চিকিৎসা সেবার পরিবেশ সুসংহত করা এবং রোগী ও চিকিৎসকদের যাতায়াত সহজীকরণের লক্ষ্যে হাসপাতালের দক্ষিন পার্শ্বে অবস্থিত জামে মসজিদ সংলগ্ন খালি জায়গায় সুপরিসর লিফটযুক্ত ছয় তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরী
উপর্যুক্ত কাজের সম্ভাব্য ব্যায় নিরূপনের জন্য খসড়া প্রাক্কলন খানা প্রস্তুত করা হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মহোদয়ের, চাহিদা পত্রের (কপি সংযুক্ত) আলোকে সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক খসড়া প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতি ফ্লোরের এরিয়া ৬,৬০০ বর্গঃ ফুট হিসেবে ভবনের মোট ফ্লোর এরিয়া দারিয়েছে ৩৯,৯৫০ বর্গঃ ফুট। বিশেষ সুবিধা সম্পন্ন ভবন।
প্রত্যাশি সংস্থার চাহিদা মোতাবেক উক্ত ভবনে জরুরী বিভাগ, ক্যাজুয়ালটি ওটি, অবজারভেশন রুম, রেডিওলজি, আল্ট্রাসনো, বহিঃ বিভাগ, প্যাথলজি, আইসিইউ, ডক্টরস লাউঞ্জ এবং ০৪টি গেস্ট রুম প্রভৃতি সংস্থান করা হবে। ভবনের সিভিল, স্যানিটারী এবং অভ্যান্তরীণ বৈদ্যুাতিক মালামাল ধরা হয়েছে। বহিঃ বিদ্যুৎ এর মধ্যে ১২৫০ কেজি বেড লিফট, ৫০ টন এসি, ২৫০ কেভিএ সাবস্টোশন, ১০০ কেভিএ জেনারেটর, পাম্প মোটর, সিসিটিভি, সোলার প্রভৃতি বিষয় ধরা হয়েছে। এবং তা প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত অধিপ্তর এর দর সিডিউল অব রেইটস ২০২২ (সংশোধিত) অনুযায়ী করা হয়েছে। যার প্রাক্কলিত মূল্য দারিয়েছে= ১৮,০০,৪৭,২৭০/১৪ টাকা। আমরা আশা করি এটা সরকার কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হলে জেলার চিকিৎসা সেবা কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে।
এবিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডাঃ মোঃ তসলিমুল আরেফিন স্বদেশ প্রতিদিন কে বলেন, দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর চিকিৎসা সেবার মান বাড়াতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সেই লক্ষেই আমরা এই সংকট নিরসনে প্রস্তাবিত ভবনের পরিকল্পনা করেছি। যেখানে ১ম তলায় জরুরী বিভাগ, ক্যাজুয়ালটি ওটি, অবজারভেশন রুম, রেডিওলজি বিভাগ ও আল্ট্রাসনো রুম। ২য় তলায় সকল স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বহিঃ বিভাগ, প্যাথলজি বিভাগ ও ইসিজি রুম। ৩য় তলায় সকল স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বিশেষজ্ঞ বহিঃ বিভাগ ও ব্রেষ্ট ফিডিং কর্ণার। ৪র্থ তলায়
আইসিইউ বিভাগ, ডায়ালাইসিস ইউনিট ও ডক্টরস এন্ড নার্সেস রুম, ৫ম তলায় ষ্টোর রুম ও স্টোর কিপারের রুম এবং ৬ষ্ট তলায় ডক্টরস লাউঞ্জ ও ৪টি গেষ্ট রুম করার পরিকল্পনা করা হয়েছে যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮,০০,৪৭,২৭০/১৪ টাকা। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবনাটি ফাইল আকারে
সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (দৃঃআঃ- সচিব মহোদয়ের একান্ত সচিব), বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা (দূঃআঃ- সহকারী পরিচালক, সমন্বয়)। পরিচালক (স্বাস্থ্য), রাজশাহী বিভাগ, রাজশাহীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করি এটা বাস্তবায়ন হলে জেলাবাসীর চিকিৎসা দুর্ভোগ লাঘব হবে। এবং তখন অন্তত উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে ঢাকা কিংবা রাজশাহী দৌড়াতে হবেনা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি