মঙ্গলবার ● ৩ নভেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থানান্তরের গুঞ্জন, যা বললেন উপাচার্য      ● ভালুকায় পিটিয়ে শিক্ষককের হাত ভেঙে দিলেন মহিলা দলের নেত্রী ও ছেলে      ● পাবনা টিটিসিতে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ      ● ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা ‘জয় অব ইনোভেশন’ অনুষ্ঠিত: তরুণ উদ্ভাবকদের সৃজনশীলতা ও টেকসই সমাধানের উদযাপন      ● ক্লাস্টার ওয়ারহেডের ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে এলো উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রভান্ডারে      ● আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ছুটি ৭০ কারখানায়      ● বিশ্ববাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী তেলের দর      ● ১০ বছর পর জবিতে জেমস, গানে মাতালেন শিক্ষার্থীদের      ● সাইবার নিরাপত্তায় ‘শক্তিশালী সংস্থা’ গঠন করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া      ● রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী      ● রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● ওমান উপকূলে কার্গো জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিক নিহত      
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থানান্তরের গুঞ্জন, যা বললেন উপাচার্য
শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১০ পিএম

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস কোথায় হচ্ছে—এ নিয়ে জেলাজুড়ে নতুন করে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত স্থান নালিয়ারদোলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন গুঞ্জনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান পরিবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে সদর উপজেলার নালিয়ারদোলার নাম উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভূমি নির্ধারণ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় নতুন করে কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আলোচনা হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সদর উপজেলার নালিয়ারদোলা, ধরলা সেতুর পূর্ব পাড় এবং দাশেরহাটের ছড়া এলাকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব স্থানের উপযুক্ততা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওপর রয়েছে।

গত ২৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন। সভায় তিনি জানান, আগের সরকারের নেওয়া বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে পুনরায় যাচাই করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পূর্বনির্ধারিত নালিয়ারদোলা বাতিল করা হয়েছে কিংবা নতুন কোনো স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য কোন স্থানটি অধিক উপযুক্ত, তা সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও মানদণ্ডের আলোকে যাচাই করা হবে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, জমির প্রাপ্যতা, কৃষিজমি সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনায় নিয়েই স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটের 'অ্যাট আ গ্ল্যান্স' বিভাগে স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্ধারিত স্থান হিসেবে নালিয়ারদোলার নাম এখনো উল্লেখ রয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্থান পরিবর্তনের খবরের সঙ্গে প্রকাশিত প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের মধ্যে অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত। এক পক্ষ পূর্বনির্ধারিত নালিয়ারদোলায় দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানাচ্ছে। অন্যদিকে, কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের প্রস্তাবিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে মতামত তুলে ধরছেন।

গত ৩ আগস্ট নালিয়ারদোলায় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনও করেন। তাঁদের দাবি, পূর্বনির্ধারিত স্থান বাদ দিয়ে অন্যত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে নালিয়ারদোলাকে স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্ধারিত স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউজিসির ২৭ জুলাইয়ের সভা-সংক্রান্ত বক্তব্যে দেখা যায়, স্থানটি নিয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই চলছে। অর্থাৎ স্থান পরিবর্তনের গুঞ্জনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচারের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে নতুন করে স্থান যাচাইয়ের বিষয়টিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস কোথায় নির্মিত হবে, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

জেলাবাসীর প্রত্যাশা, স্থান নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও মতবিরোধের অবসান ঘটিয়ে স্বচ্ছতা, উপযুক্ততা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও জরুরি।

 এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেটা সমালোচনা হচ্ছে, সেটা নিতান্ত একটা গুজব মাত্র। যারা এটাকে ছরাচ্ছেন তারা এ তথ্য কিভাবে পেল সেটা তাদের কেই জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দেন।  তিনি আরো বলেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যদি অন্যত্র কোথাও হয় তাহলে বিষয়টি আমি জানবো, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক জানবে। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেটা ছড়াচ্ছে সেটা নিতান্তই গুজব,তিনি এ গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। 








স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি


আরও সংবাদ   বিষয়:  কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়   কুড়িগ্রাম   স্থায়ী ক্যাম্পাস   নালিয়ারদোলা   বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন   ইউজিসি   উপাচার্য   ক্যাম্পাস স্থানান্তর   শিক্ষা  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : ড. এম এ কাইয়ুম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close