প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৮ পিএম

বিস্তৃত এলাকায় একসঙ্গে আঘাত হানতে সক্ষম ক্লাস্টার বোমা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উত্তর কোরিয়া। গত ৩১ অক্টোবর কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারের উপযোগী ক্লাস্টার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালায় দেশটি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর বরাতে রয়টার্স জানায়, ‘স্ট্যান্ডার্ড টাইপ-২’ ওয়ারহেডটি ১২ থেকে ১৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং। ২ নভেম্বর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে সংযুক্ত মাঝারি আকারের ক্লাস্টার ওয়ারহেডেরও পরীক্ষা চালানো হয়। উত্তর কোরিয়ার দাবি, এটি ৫ থেকে ৬ হেক্টর এলাকাজুড়ে আঘাত হানতে পারে।
ক্লাস্টার বোমার ভেতরে থাকে অসংখ্য ছোট বিস্ফোরক, যেগুলোকে সাবমিউনিশন বা বোমলেট বলা হয়। মূল বোমা বা ওয়ারহেড নির্দিষ্ট উচ্চতায় গিয়ে খুলে গেলে ছোট বিস্ফোরকগুলো বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে একসঙ্গে বহু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়। তবে সব বোমলেট তাৎক্ষণিক বিস্ফোরিত না হওয়ায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও সেগুলো বেসামরিক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এ ধরনের অস্ত্রের প্রাথমিক ধারণা তৈরি হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি তা ব্যবহার করে। পরবর্তী সময়ে ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন সংঘাতে ক্লাস্টার অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। এর ভয়াবহ মানবিক ঝুঁকির কারণে ২০০৮ সালে ক্লাস্টার মিউনিশনবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন গৃহীত হয়। এতে অস্ত্রটির ব্যবহার, উৎপাদন, মজুদ ও হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়া কীভাবে এই প্রযুক্তি অর্জন করেছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য তথ্য নেই। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিকাশে অতীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা ছিল। পরে মিসরের মধ্যস্থতায় সোভিয়েত নকশার স্কাড-বি ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করে সেটির প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও অনুকরণের মাধ্যমে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলে পিয়ংইয়ং। ইরানের সঙ্গেও দেশটির গোপন সামরিক সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে পুরোনো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিদেশি প্রযুক্তির প্রভাব থাকলেও বর্তমান ক্লাস্টার ওয়ারহেডের প্রযুক্তি সরাসরি কোনো দেশ থেকে এসেছে—এমন প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি