ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা ‘জয় অব ইনোভেশন’ অনুষ্ঠিত: তরুণ উদ্ভাবকদের সৃজনশীলতা ও টেকসই সমাধানের উদযাপন

আজ আগা খান একাডেমি, ঢাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (IHF)-এর বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা ‘জয় অব ইনোভেশন’ (Joy of Innovation)। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের নানা সমস্যার সৃজনশীল সমাধান তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ উদ্ভাবকরা। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতা করেছে আগা খান একাডেমি ঢাকা, ফিনিস, লাইট অব হোপ, গালিতো’স এবং দ্য এনচ্যান্টেড রেসিডেন্স।
মেলায় ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের স্কুলসহ বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মোট ১২টি দল তাদের উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রকল্প উপস্থাপন করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, ইগনাইট গ্লোবাল ফাউন্ডেশন, দোয়েল স্কুল, ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস স্কুল, হাসিমুখ, ইগলাল’স এবিসি চ্যারিটি স্কুল, কে কে ফাউন্ডেশন, এইম ইনিশিয়েটিভ ফাউন্ডেশন এবং স্পন্দনবি স্কুল। শিক্ষার্থীদের প্রকল্পগুলোতে স্মার্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পানির সংকট, কৃষি, তাপপ্রবাহ এবং জলবায়ু সহনশীল বসতি গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যা সমাধানের ধারণা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জনাব মো. আদনান হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক সাদিয়া হানিফ চৌধুরী।
বিজ্ঞান প্রকল্পগুলো মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন আগা খান একাডেমি ঢাকার তিনজন সম্মানিত বিচারক— মিস রামিসা বুশরা, জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক; মিস ইনোসে চাভানে, রসায়ন বিভাগের শিক্ষক; এবং মিস তাবাসসুম বিনতে জামাল, গণিত বিভাগের শিক্ষক। তাঁরা শিক্ষার্থীদের প্রকল্পের সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক ধারণা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্যতার বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করেন।
বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনীর পাশাপাশি মেলায় আয়োজন করা হয় সচেতনতামূলক নাটক ‘ডিজিটাল ফাঁদ’, যেখানে অনলাইন নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এছাড়াও ম্যাজিশিয়ান ও ইনফ্লুয়েন্সার আজওয়াদ মোস্তাফিজ আদর একটি আকর্ষণীয় ম্যাজিক শো পরিবেশন করেন। তাঁর পরিবেশনা শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে উপস্থিত বড়দেরও আনন্দিত করে এবং পুরো আয়োজনে যোগ করে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে মেডেল, সার্টিফিকেট ও গুডি ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেরা উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপনকারী দলগুলোকে বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় দোয়েল স্কুল, হ্যাল্প ফর ডিপ্রাইভড ফাউন্ডেশন চ্যাম্পিয়ন, হাসিমুখ ফাউন্ডেশন স্কুল প্রথম রানার-আপ এবং সুইচ তাহমিনা বানু বিদ্যা নিকেতন দ্বিতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তাদের সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ দলগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন আগা খান একাডেমি ঢাকার প্রধান জনাব স্যান্ডি ম্যাকেঞ্জি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্যম, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রশংসা করেন এবং হাতে-কলমে শেখার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু আবিষ্কার ও উদ্ভাবনে উৎসাহিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আগা খান একাডেমি ঢাকার ২০ জন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক। তাঁদের আন্তরিক সহযোগিতা, পরিশ্রম ও দলগত প্রচেষ্টা পুরো আয়োজনকে সফল করে তুলতে বিশেষ অবদান রাখে।
‘জয় অব ইনোভেশন’ বিজ্ঞান মেলা ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) এবং পরিবেশবিষয়ক শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ক্ষমতায়নের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অনুসন্ধান, দলগত কাজ এবং নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে IHF আগামী প্রজন্মের সমস্যা সমাধানকারী ও ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারীদের গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে এ আয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট অংশীদার এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ইত’স হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং আজীবন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে।