প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১২ পিএম

স্বভাবগতভাবে অন্তর্মুখী হলেও অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ভালোবাসেন লেখক ও সাংবাদিক ওয়ারা করিম। তাঁর মতে, অচেনা মানুষের সঙ্গে অল্প সময়ের আলাপও জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা ও আনন্দ যোগ করতে পারে। ভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের মানুষের গল্প শুনে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক লেখায় নিজের এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
লেখায় ওয়ারা করিম যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপণ্যের বাজারে পরিচিত হওয়া তিন নারীর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের একজন আইভরি কোস্টের তানিয়া। কথোপকথনে তিনি জানতে পারেন, তানিয়ার স্বামী জাতিসংঘের হয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিরক্ষীদের দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন এবং বাংলা বলতে পারেন। আরেকজন চীনের গুয়াংজুতে জন্ম নেওয়া কে; তাঁর সঙ্গে লেখকের চীনে থাকা আত্মীয়দের নিয়ে কথা হয়। তৃতীয় নারী অ্যাথেনার কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তাঁর বাবা-মায়ের পরিচয় হয়েছিল সৌদি আরবে। এ ছাড়া ২০১৭ সালে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বিমানে এক বাংলাদেশি দর্জির সঙ্গে দীর্ঘ আলাপের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন লেখক। সৌদি আরবে শিশুদের স্কুলের পোশাক সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করা ওই ব্যক্তি তাঁকে নিজের জীবনসংগ্রামের নানা গল্প শুনিয়েছিলেন।
লেখকের মতে, অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে অনেকেই সংকোচ বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে পিছিয়ে থাকেন। অথচ কখনো কখনো অচেনা মানুষের কাছেই নিজের জীবনের কথা সহজে বলা যায়, কারণ সেখানে বিচার হওয়ার ভয় কম থাকে। ক্যাফে কিংবা দোকানে বয়স্ক নারীদের পোশাক, চুল বা ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেও তিনি আলাপের সূচনা করেন। তাঁর বিশ্বাস, প্রত্যেক মানুষেরই আলাদা গল্প আছে। অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলা শুধু নতুন কিছু জানার সুযোগ নয়, বরং একে অপরকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি সহজ উপায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি