প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। কেউ জিপিএ-৫ পেয়ে আনন্দে মেতেছেন, আবার কেউ আশানুরূপ ফল না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী। তবে পরীক্ষার ফলাফলই একজন শিক্ষার্থীর মেধা, যোগ্যতা কিংবা ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি নয়।
পরীক্ষায় খারাপ ফলের পেছনে নিয়মিত পড়াশোনার অভাব, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা, পরীক্ষার হলে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, সময় ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, পারিবারিক অস্থিরতা কিংবা শারীরিক ও মানসিক চাপের মতো নানা কারণ থাকতে পারে। তাই ফল হাতে পাওয়ার পর নিজেকে ব্যর্থ ভাবার পরিবর্তে কোথায় সমস্যা হয়েছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। নির্দিষ্ট দুর্বলতা চিহ্নিত করে পড়ার কৌশল পরিবর্তন এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান ও সময় ধরে মডেল টেস্ট দেওয়ার অভ্যাসও ফল উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
এ সময়ে অভিভাবকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা, অপমান করা কিংবা বকাঝকা না করে পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। হতাশ শিক্ষার্থীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নতুনভাবে শুরু করার সাহস জোগানো উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও শারীরিক-মানসিক যত্নও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে। মনে রাখতে হবে, একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই জীবনে ব্যর্থতা নয়। পরীক্ষার ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অধ্যায়ের মূল্যায়ন মাত্র; সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরির অনেক সুযোগ রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি