
সংস্কারের অভাবে যশোর পৌরসভার প্রায় ৭০ শতাংশ সড়কই পরিণত হয়েছে খানাখন্দে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমছে পানি, সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় জনভোগান্তি বাড়লেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
যশোর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকায় মোট ২৮৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে বিটুমিন কার্পেটিং ১৭৬ কিলোমিটার, কংক্রিটের সড়ক ৩০ কিলোমিটার, ইটের সড়ক ৫১ কিলোমিটার এবং মাটির কাঁচা রাস্তা ৩০ কিলোমিটার। এ ছাড়া সড়কের পাশে পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য রয়েছে মোট ২৫২ কিলোমিটার ড্রেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পৌর এলাকার মোট সড়কের প্রায় ৭০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা রোড মসজিদ থেকে আমতলা মোড়, আমতলা মোড় থেকে ফুলতলা মোড়, নীলগঞ্জ শাহাপাড়া রোড এবং পূর্ব বারান্দী মেইন রোড থেকে লিচুতলা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের অবস্থা নাজুক। ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বারান্দী মেইন রোড, খালধার রোড ও কাঠেরপুল ব্রিজের দুপাশের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিলুখান রোড, ঘোপ সেন্ট্রাল রোড ও ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল আজিজ রোডের আবু নাসের ক্লাব থেকে ডায়মন্ড প্রেস পর্যন্ত অংশ, আবু তালেব সড়ক, পালবাড়ি-খয়েরতলা রোড থেকে পাগলাদাহ মোড় পর্যন্ত সড়ক ও ঘোষপাড়া মেইন রোডের অবস্থাও বেহাল।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের হজরত বোরহান শাহ সড়ক, মিশনপাড়া রোড, মুন্সি মেহেরুল্লাহ সড়ক থেকে জজকোর্ট মোড়, মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন সড়ক, খড়কির বামনপাড়া, ধোপাপাড়া, স্টেডিয়ামপাড়া, আপনমোড় ও কবরস্থান রোডে রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এমএম আলী রোড, নিরালা হল থেকে হরিনাথদত্ত রোড, কেশবলাল সড়ক, ভোলাট্যাংক রোড ও ডালমিল সড়কও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রম রোড ও ইসহাক সড়ক, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারী মোহন রোড, বেজপাড়া মেইন রোড, রেল রোড, বেজপাড়া নিউ এক্সটেনশন রোড এবং বিহারিপাড়া রোড থেকে গোলগুল্লা মোড় পর্যন্ত সড়কের অবস্থা শোচনীয়। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোল্ড স্টোর মোড় থেকে নতুন বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক এবং নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া সড়কেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলো সংস্কারের অভাবে পড়ে থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে সড়কগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদেরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের অবস্থা বেহাল। বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কিন্তু সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই।
রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা জাহিদ হোসেন টগর বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতিবাজ মেয়র সড়ক সংস্কারের কাজ করেননি। উন্নয়ন বরাদ্দ লুটপাট করা হয়েছে।
চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা শিকদার মোহাম্মদ রনি বলেন, বৃষ্টি হলেই সড়ক মরণফাঁদে পরিণত হয়। অথচ পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।
যশোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শরীফ হাসান বলেন, পৌর এলাকার অধিকাংশ সড়কের অবস্থাই বেহাল। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক সংস্কার করা হবে।
যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত মেরামতকাজ শুরু করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি