শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● রাইড শেয়ারিংয়ে বিশৃঙ্খলা! সমাধান প্রয়োজন      ● সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ক্লাবে এসআরবি ও এনবিআরের অভিযান      ● নতুন নাটকে সাদিয়া ইসলাম মৌ      ● শিল্পকারখানার মিটার চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার      ● ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে থামাতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র’      ● নিখোঁজ কিশোরের লাশ উদ্ধার      ● পশুর চ্যানেলে নিখোঁজ জেলের মরদেহ       ● মাদক ও জুয়া বিরোধী সমাবেশ      ● বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব হলেন: রেজাউল করিম লিটন      ● স্প্রেইড হিউম্যানিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী      ● এডিপির বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে চিঠি বিতরণ      ● ‘হাম ও ডেঙ্গুঃ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নগর পরিকল্পনার ভূমিকা’       
রাইড শেয়ারিংয়ে বিশৃঙ্খলা! সমাধান প্রয়োজন
মোকাররম হোসেন শুভ
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ পিএম

বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং সেবার যাত্রা শুরু হয়েছিল ভালো কিছু প্রত্যাশা নিয়ে। কিন্তু বর্তমানে এই খাতের পরিস্থিতি অনেকটাই বিশৃঙ্খল। যাত্রীরা অনেক সময় নিজেদের সিএনজি অটোরিকশা চালকদের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় দেখতে পান। এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ার পর রাইড শেয়ারিং সেবাগুলোও ভাড়া বাড়িয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই ভাড়া বৃদ্ধিতে যাত্রী কিংবা চালক কেউ কি স্বস্তি পেয়েছেন? উত্তর হলো: না। বরং বাড়তি ভাড়া মধ্য ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত যাত্রীদের পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। একই সময়ে চালকদেরও বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় এবং রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোর উচ্চ কমিশনের চাপ সামলাতে হচ্ছে। এই দুই পক্ষের মাঝখানে রয়েছে মুনাফাভিত্তিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান। তাই এখন প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে আরও মানবিক ও কার্যকর পরিবর্তনের কথা ভাবার সময় এসেছে।


ঢাকা ও চট্টগ্রামের সড়কে রাইড শেয়ারিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীরা অ্যাপের মাধ্যমে রাইডের অনুরোধ করেন এবং অপেক্ষা করেন, অথচ অনেক চালক অনুরোধ গ্রহণ না করেই চলে যান। কেউ কেউ অ্যাপ চালু রাখলেও যাত্রীর গন্তব্য পছন্দ না হলে রাইড বাতিল করেন। এরপর শুরু হয় ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি। এই পরিস্থিতিতে কর্মজীবী নারী, অসুস্থ রোগী এবং প্রবীণ নাগরিকদের কী অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়, তা সহজেই অনুমেয়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কিছু চালক কার্ড বা মোবাইল পেমেন্ট গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তাদের হাতে নগদ অর্থ প্রয়োজন। অন্যদিকে চালকদেরও অসন্তোষের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রচণ্ড রোদ কিংবা মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানো কোনো সহজ পেশা নয়। ট্রাফিক মামলার ঝুঁকি, সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাদের কাজ করতে হয়। ফলে রাইড শেয়ারিং খাতের বর্তমান বিশৃঙ্খলা মূলত যাত্রী ও চালকের মধ্যে তৈরি হওয়া একটি অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক স্বার্থের সংঘাত।


চালকদের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহারে অনীহা এবং অফলাইন বা অনানুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি যাত্রী নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো প্ল্যাটফর্মগুলোর উচ্চ সেবা মাশুল বা কমিশন। কিছু প্ল্যাটফর্ম প্রতিটি ট্রিপ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ কেটে নেয় বলে জানা যায়। বিষয়টি গভীরভাবে দেখলে প্রশ্ন ওঠে প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের এত বড় অংশ কেন চালক বা গাড়ির মালিককে দিতে হবে? গাড়ি বা মোটরসাইকেল কিনতে তারা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেন। গাড়ি বা মোটরসাইকেলের মেরামত, টায়ারের ক্ষয়, লুব্রিকেশন ও তেল পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয়সহ সব খরচ তাদেরই বহন করতে হয়। এর পাশাপাশি রয়েছে তাদের শারীরিক শ্রম। অথচ শেষ পর্যন্ত উপার্জনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মকে দিতে হচ্ছে সংযোগ ও সেবা ব্যবহারের বিনিময়ে। অবশ্যই কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় রয়েছে এবং তা মেটানো প্রয়োজন। কিন্তু কমিশন কাটার মাত্রা চালকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। ফলে অনেক চালক ধীরে ধীরে অফলাইন সেবার দিকে ঝুঁকছেন।


এই সংকট মোকাবিলায় প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হওয়া উচিত রাইড শেয়ারিং কমিশন সর্বোচ্চ ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। ৫ শতাংশ কমিশন চালু করা হলে চালকদের অনলাইনে সক্রিয় থাকার জন্য বাড়তি প্রণোদনা তৈরি হবে। তারা যদি নিশ্চিত থাকেন যে তাদের উপার্জনের বড় অংশই নিজেদের কাছে থাকবে, তাহলে অ্যাপ ছেড়ে অফলাইনে কাজ করার প্রবণতাও কমতে পারে। এর সরাসরি সুফল পাবেন যাত্রীরা, কারণ সহজে ও দ্রুত রাইড পাওয়া সম্ভব হবে। রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো অবশ্য যুক্তি দিতে পারে যে ৫ শতাংশ কমিশন তাদের পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তবে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রিপ পরিচালিত হওয়ার কারণে অল্প শতাংশ কমিশন থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব। প্রয়োজনে সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ খাতকে উৎসাহিত করতে এবং চালকদের সুরক্ষা দিতে নির্দিষ্ট আর্থিক প্রণোদনা বা কর সুবিধার কথা বিবেচনা করতে পারে। তীব্র গণপরিবহন সংকটে থাকা জনবহুল শহরগুলোতে রাইড শেয়ারিং এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং নগর পরিবহনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।


বেসরকারি কোম্পানিগুলো যদি যাত্রী ও চালক উভয়ের জন্য ন্যায্য নীতি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে রাষ্ট্র নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। সরকারকে উদ্ভাবনী ও বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর উদ্যোগের মাধ্যমে যেমন একটি সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, একই ধরনের ধারণা অনুসরণ করে রাইড শেয়ারিংয়ের জন্য একটি ‘ন্যাশনাল ওপেন ডিজিটাল রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম’ বা জাতীয় উন্মুক্ত ডিজিটাল রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যৌথভাবে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিতে পারে, যেখানে নিবন্ধিত চালক ও যাত্রীরা একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় সেবা নিতে পারবেন। এমন একটি প্ল্যাটফর্মে ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ, অতিরিক্ত চাহিদার সময় অস্বাভাবিকভাবে ভাড়া বাড়ানো কিংবা একতরফাভাবে কমিশন পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত থাকবে। একটি স্বচ্ছ ভাড়া কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। অবস্থানভিত্তিক প্রযুক্তির সহায়তায় এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এতে চালকেরা যাত্রীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করতে পারবেন না এবং একই সঙ্গে চালকরাও তাদের শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবেন। এর লক্ষ্য হবে কার্যকর সরকারি নজরদারির আওতায় একটি স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।


এখন প্রয়োজন এমন একটি কৌশল, যেখানে কোনো পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আধুনিক প্রযুক্তি, যাতায়াতের সুবিধা এবং রাইড শেয়ারিং খাতের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া কর্মসংস্থানের সুযোগ অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে এই ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা ও সম্ভাব্য অনিয়মও মোকাবিলা করতে হবে। রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হলো নিরাপত্তা ঝুঁকি। কোনো যাত্রী যখন আনুষ্ঠানিক অ্যাপের বাইরে সরাসরি কোনো চালকের মোটরসাইকেলে ওঠেন বা গাড়িতে যান, তখন ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা হয়তো আর কার্যকর থাকে না। কোনো দুর্ঘটনা, ছিনতাই, হয়রানি কিংবা অন্য কোনো গুরুতর ঘটনা ঘটলে ডিজিটাল রেকর্ড না থাকায় তদন্ত ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একটি সরকারি ডিজিটাল বিকল্প এবং বেসরকারি রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য শক্তিশালী আইন ও ভোক্তা সুরক্ষা কাঠামো এই দুইয়ের সমন্বয় খাতটিতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। বাংলাদেশে বেসরকারি প্ল্যাটফর্মগুলোকে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হলে কমিশন, স্বচ্ছতা, যাত্রী নিরাপত্তা ও চালকদের অধিকার বিষয়ে সরকার যৌক্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান বারবার এসব নিয়ম লঙ্ঘন করলে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও থাকতে হবে।


বাংলাদেশ যখন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে একটি ডিজিটালি সংযুক্ত সমাজ গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশের প্রধান শহরগুলোর পরিবহন ব্যবস্থায় এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। প্রযুক্তির উদ্দেশ্য মানুষের জীবনকে সহজ করা আর্থিক চাপ বা প্রতিদিনের ভোগান্তি বাড়ানো নয়। রাইড শেয়ারিং খাতের বর্তমান সংকট শুধু যাত্রী বা চালক কাউকে এককভাবে দায়ী করে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিআরটিএ, সংশ্লিষ্ট আইসিটি কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে একসঙ্গে বসে একটি সমন্বিত নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করতে হবে। চালক ও যাত্রী উভয়ের অধিকার, স্বার্থ এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আধুনিক নগর পরিবহনের যে প্রত্যাশা নিয়ে রাইড শেয়ারিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা অচিরেই জনভোগান্তির আরেকটি উৎসে পরিণত হতে পারে।


এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। একটি স্বচ্ছ কমিশন কাঠামো, শক্তিশালী আইনি নজরদারি, যাত্রী ও চালকদের উন্নত সুরক্ষা এবং একটি জাতীয় ডিজিটাল রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম এই উদ্যোগগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। লক্ষ্য হওয়া উচিত রাইড শেয়ারিং কোম্পানি বা চালকদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে প্রযুক্তি জনস্বার্থে কাজ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত হবে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর নীতির মাধ্যমেই বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং খাতের ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য নগর পরিবহনের প্রত্যাশা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।




স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close